গত গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের দিকে রওনা হওয়া ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে অপহরণ, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই তরুণরা সবাই ইরাকি কুর্দিস্তানের বাসিন্দা। লিবিয়ায় একটি মিলিশিয়া বাহিনী তাদের আটক করে। মিলিশিয়ারা তাদের প্রত্যেক পরিবারের কাছে পাঁচ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করে এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধ না করা হলে বন্দীদের কিডনি কেটে নেওয়ার হুমকি দেয়।
বিবিসি মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে কথা বলেছে এবং এমন কিছু ছবির প্রমাণ দেখেছে যা থেকে বোঝা যায় যে জোরপূর্বক অঙ্গচ্ছেদের ঘটনা সত্যিই ঘটেছিল।
প্রাক্তন বন্দিরা নির্যাতনের প্রমাণ দেখিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, তাদের অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যেখানে একটি কক্ষে প্রায় ১৮০ জন লোক থাকত।
জানা গেছে, অন্তত একজন জিম্মি মারা গেছেন এবং কতজন এখনো বন্দি আছেন তা স্পষ্ট নয়।
মিলিশিয়া বাহিনীটির কাজ ছিল অভিবাসীদের লিবিয়ার মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরের উপকূল পর্যন্ত পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া। তবে, অভিবাসীদের যাত্রার আয়োজক, ইরাকি কুর্দি মানব পাচারকারী নোয়া অ্যারনের সাথে অর্থ পরিশোধ নিয়ে একটি বিরোধ দেখা দেয়।
অ্যারন এখন ফ্রান্সে পৃথক অর্থ পাচার এবং পাচারের অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
অপহরণের এই বিবরণগুলো সম্প্রতি বিবিসির একটি অনুসন্ধানের সময় সামনে আসে, যা আরেক পাচারকারী কার্দো জাফকে নিয়ে করা হয়েছিল। গত মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধারণা করা হয়, এই দুই পাচারকারী অতীতে একসাথে কাজ করত। দুজনেই ইরাকি কুর্দিস্তানের রানিয়া শহরের বাসিন্দা। যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই অঞ্চলটি ‘সক্রিয় পাচারকারী নেটওয়ার্কে জর্জরিত।’
ফেব্রুয়ারিতে, বিবিসির একটি অনুসন্ধানী দল রানিয়াতে জাফ সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছিল। তখন একজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের কাছে এসে জানান, আটককৃতদের মধ্যে তার ছেলেও ছিল।
ওই ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, অ্যারনের পাচারকারী দলটি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার যাত্রার আয়োজন করার জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার নিয়েছিল। এই যাত্রাপথে উত্তর আফ্রিকা হয়ে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে যাওয়ার কথা ছিল।
জাতিসংঘের উপদেষ্টা অ্যান্থনি ডাঙ্কার্লি, যিনি সেখানে মানব পাচার তদন্ত করেছেন, তার মতে, পাচারকারীদের এই পথটি লিবিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। ওই দেশটিতে ‘সরকারের এক বিরাট শূন্যতা’ রয়েছে।
লিবিয়ার বেশিরভাগ অংশই প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে এবং পাচারকারী চক্রগুলো তাদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে।