আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন 

সরকার গঠনের এক মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দপ্তর বন্টন হল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মন্ত্রিসভার। বুধবার (১০ জুন) রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে রাজ্যের ৪১ জন মন্ত্রীর দায়িত্ব বন্টন করা হয়। এর মধ্যে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ১৯ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তিন জন এবং প্রতিমন্ত্রর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ১৯ জন। 

গত ৯ মে ব্রিগেডের শপথ সমারোহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঁচ মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। এর হলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তাদের সকলেরই দপ্তর আগেই বণ্টন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১ জুন লোক ভবনে শপথ নেন শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য। কিন্তু সেইসব মন্ত্রীদের কোন দায়িত্ব এতদিন বন্টন করা হয়নি। বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন মন্ত্রীদের যেমন দপ্তর বন্টন করা হয়েছে, তেমনি আগে শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রীদের দপ্তরও কিছুটা রদবদল করা হয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস রায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পেশায় চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। উচ্চশিক্ষা দপ্তর দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে। স্কুল শিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র,মাঝারি ও কুটির শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক বর্মণকে। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে থাকছে স্বরাষ্ট্র, আইন ও বিচার, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব এবং বিদ্যুৎ। দিলীপ ঘোষের হাতে থাকছে পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ। অগ্নিমিত্রা পালের হাতে থাকছে পুর ও নগর উন্নয়ন, নিশীথ প্রামাণিকের হাতে থাকছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও অশোক কীর্তনিয়ার হাতে থাকছে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর, ক্ষুদিরাম টুডুর হাতে থাকছে আদিবাসী উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর।  

মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দুধকুমার মন্ডল। সংসদীয় ও পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শঙ্কর ঘোষকে। পরিবহন ও শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অর্জুন সিং। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্যানবিদ্যা দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন কল্যান চক্রবর্তী। বন ও পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন মনোজ কুমার ওরাও।

স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন মন্ত্রীর মধ্যে মালতী রাভা রায় পেয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। পানি সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজেশ মাহাতো। এবং ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং ক্রেতা সুরক্ষা (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন- জুয়েল মুর্মু (আদিবাসী উন্নয়ন), হরেকৃষ্ণ বেরা (উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা), আনন্দময় বর্মন (পরিবহন এবং অর্থ), অশোক দিন্দা (কৃষি বিপণন, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় শিল্প), পূর্ণিমা চক্রবর্তী (তথ্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক এবং পর্যটন)।