ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা জোরদার হয়ে উঠেছে। এই লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য জেনেভা সফরকে সামনে রেখে সব প্রস্তুতি শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
এরই অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (১২ জুন) সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর চারটি সি-১৭ পরিবহন বিমান ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওএস এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলুর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চলতি প্রচেষ্টার মাধ্যমে চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেনেভায় একটি সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর এই সামরিক ফ্লাইটগুলো মূলত সেই সফরের অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবেই পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ‘চমৎকার সমঝোতায়’ পৌঁছেছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর ইউরোপ যাত্রার খবর সামনে আসে।
এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি স্থায়ী ও বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
খসড়া চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি ছাড়াই অবিলম্বে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এর বিনিময়ে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উদ্বেগগুলোর সমাধান করবে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পদক্ষেপগুলোর বিষয়টি পরবর্তীতে একটি পৃথক ও বিস্তারিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এছাড়া, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করছে- তার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, যার মধ্যে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর সাময়িক ছাড়ও রয়েছে।
এই খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলেছে। বুধবার রাতে কাতারি মধ্যস্থতাকারী আলি আল-থাওয়াদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সাময়িক সমঝোতা অর্জিত হয়। এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সরাসরি জড়িত ছিলেন।
কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতার কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে অভিহিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার প্রক্রিয়াধীন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরান এখনো প্রস্তাবিত এই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এক্সিওসের প্রতিবেদন মতে, চুক্তিটি কার্যকর হতে এখনো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে।