আন্তর্জাতিক

ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে শনাক্ত না করার ঝুঁকি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হয়তো কখনোই শনাক্ত করা যাবে না—এই ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। কারণ উদ্ধার অভিযান ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক দেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জেরুজালেমে আইসিআরসি-এর মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মৃতদেহগুলো শিগগিরই শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মানবদেহের অবশেষ উদ্ধারে যত দেরি হবে, তাদের শনাক্ত করা তত কঠিন হয়ে পড়বে। মৃতদেহগুলো যত বেশি দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকবে, অবশেষে যখন তাদের উদ্ধার করা হবে, তখন তাদের দেহ পচনের উন্নত পর্যায়ে—এমনকি কঙ্কালসার—থাকার সম্ভাবনা তত বাড়বে।”

তিনি আরো বলেন, “ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ব্যবহারের সুযোগ হারান, যা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজে লাগানো যেত।”

অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা আনুমানিক ৬১ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খননকাজ শুরু করেছে, যা ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সংঘাতগুলোতে সৃষ্ট সম্মিলিত পরিমাণের প্রায় ২০ গুণ। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্তও হতে পারে।

উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত বেলচা, কোদাল, ঠেলাগাড়ি, রেক এবং নিড়ানির মতো সাধারণ সরঞ্জাম এবং খালি হাতের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে। খননযন্ত্র এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

গ্রিফিথস বলেন, “অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোর এমন সব স্থানে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন যেখানে মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা জানি যে, এই যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলোর বেশিরভাগই এই মুহূর্তে গাজায় নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। এবং এই সামগ্রী ও সরঞ্জামগুলোকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়াই আমাদের আহ্বান, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের চলমান সরাসরি আলোচনারই একটি অংশ।”