মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তিটি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর অর্থ হলো চুক্তির শর্তগুলো এখন কার্যকর এবং ইরান কোনো নতুন আর্থিক সুবিধা বা ছাড় পাচ্ছে না। খবর সিএনএনের।
সোমবার (১৫ জুন) এবিসির ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, “আমরা গতকালই ডিজিটালভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছি এবং কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। আর এর কোনো পরিবর্তনও হবে না।”
চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচনায় এলেও, এটি স্পষ্ট ছিল না যে, এমন কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটেছে। জে ডি ভ্যান্স আরো জানিয়েছেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তির মূল পাঠ্য বা অনুলিপি প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইউরোপে পৌঁছেছেন। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে-তার দেওয়া এমন ঘোষণার পরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির হুবহু পাঠ্য বা মূল অনুলিপি প্রকাশ করা।
তিনি আরো বলেন, “হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে শুল্কমুক্ত (টোল-মুক্ত) রাখার বিষয়টি চলমান ‘ট্যাকনিকেল’ আলোচনায় স্থান পাবে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, বিষয়টি এখনো পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি।”
অন্যদিকে, জলপথটি খুলে দেওয়ার পর সেখানে দেওয়া সামুদ্রিক পরিষেবাগুলোর জন্য ‘ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কোনো ‘ট্রানজিট টোল’ বা যাতায়াত শুল্ক আদায় করতে চাচ্ছে না।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে অবাধে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন প্রণালিটি আগামী শুক্রবার পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।