প্রতি বছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হয় ফেব্রুয়ারির এক তারিখ থেকে। নানা কারণে দিন পিছিয়ে এ বছর বইমেলার দুয়ার খোলার দিন নির্দিষ্ট হয়েছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি। বইমেলা পিছিয়ে যাওয়ার ফলে প্রকাশনা শিল্পে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আদর্শ প্রকাশনীর সিইও মাহাবুব রাহমান। দেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই কালে প্রকাশক হিসেবে তার নিজস্ব ভাবনা, সংকটের কারণ, উত্তরণের উপায়সহ নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বরলিপি।
রাইজিংবিডি: বছর ঘুরে দুয়ারে অমর একুশে বইমেলা। এটি দেশের সৃজনশীল প্রকাশনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এই আয়োজনে ‘আদর্শে’র প্রস্তুতি বা পরিকল্পনার কথা জানতে চাই।
মাহাবুব রাহমান: সত্যি বলতে আমরা প্রতি বছর যেভাবে আয়োজন করে থাকি এ বছরও তাই। বাংলাদেশে আমাদের বই কেন্দ্র করে যে পরিকল্পনা, স্বাভাবিকভাবেই তা মেলাকেন্দ্রিক। চলতি বছর আমরা অনেক আগে থেকেই বইমেলা কেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি। ফলে আমাদের সমস্ত অ্যাটেনশনের কেন্দ্রে এখন বইমেলা নেই। কারণটা হচ্ছে— রাজনৈতিক অস্থিরতা।
এ ছাড়া আমরা দেখেছি যে, পাঠকের রিডিং হ্যাবিটে পরিবর্তন এসেছে। ফলে বাংলাদেশে প্রকাশনা সংস্থাগুলো একটা ট্রানজিশনাল পিরিয়ড পার করছে। এগুলো অবজার্ব করা ছাড়া এখন উপায় নেই। এ বছর আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে প্রধান একটি সেগমেন্ট হচ্ছে সাহিত্য। সাহিত্যের জায়গা থেকে আমাদের উদ্দেশ্য থাকে যারা ভালো বই লিখছেন, তাদের বই প্রকাশ করা। আমাদের আরও একটি অ্যাটেনশনের বড় জায়গা হলো ননফিকশন বই প্রকাশ করা। প্রতি বছরের মতো এ বছরও চিন্তামূলক, গবেষণামূলক বা প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ের বই প্রকাশে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি।
রাইজিংবিডি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয়, এমন লেখকের বই আপনারা প্রকাশ করেন। আমার প্রশ্ন হলো— লেখকের ফেস ভ্যালু বা জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের বই প্রকাশ করা হয় কি না?
মাহাবুব রাহমান: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর যদি হয়, তাহলে তো সেটা কিন্তু খারাপ কিছু না। বইও একটি কন্টেন্ট। একজন হয়তো কোনো একটি বিষয়ে এক্সপার্ট, যেটাকে সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট বলা হয়। আর সাবজেক্ট বলতে আমরা এখন শুধু ধ্রুপদি সাবজেক্টকেই বুঝি না, এখন ছোট ছোট নানা ধরনের টপিক আছে; সেগুলোও সাবজেক্ট। একজন মানুষ ব্র্যান্ড হয়ে ওঠেন তার ওই রেকোগ্নিশনের জন্যই। আমরা কিন্তু শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ফেসভ্যালু দেখে বই প্রকাশ করি না, আমাদের এখানে সেই অর্থে সেলিব্রেটিদের যেসব বই প্রকাশ হয়; আপনি দেখবেন সেই লেখকেরা সবাই কমবেশি সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট। ধরেন কেউ হয়তো খেলাধুলা করেন, কেউ বড় সেলিব্রেটি হয়ে গেছেন, তার বই যদি আদর্শ থেকে প্রকাশিত হয়— তাহলে ওই লেখকের বই অবশ্যই হবে খেলাধুলা বিষয়ে অথবা তিনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট সেই বিষয় নিয়ে। ‘আদর্শ’ লেখকের শুধু ব্র্যান্ড ভ্যালু কখনও বিক্রি করে না। ‘আদর্শ’ লেখকের মেধা বিক্রি করে।
রাইজিংবিডি: বই মার্কেটিংয়ে ‘আদর্শ’ কীভাবে কাজ করছে?
মাহাবুব রাহমান: বইয়ের মার্কেটিং কথাটা অনেক বেশি ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে যায়। মার্কেটিং হচ্ছে খুবই গভীর একটা বিষয়। সেখানে অনেগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। আমাদের এখানে প্রকাশকদের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে, বই প্রকাশ করা, তারপর সেল করা। এখন যদি বলি, ‘আদর্শ’ অনেক বেশি বই মার্কেটিং করে, তাহলে ভুল হবে। রিয়েলিটির জায়গা থেকে বলি, একটি বইয়ের দাম যদি হয় ৩০০ টাকা, ওই বইটি পাইকারি দরে ১৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এখান থেকে হয়তো ৩০ টাকা পাবেন। বইয়ের আলাদা উৎপাদন খরচ আছে। তাহলে বিজ্ঞাপনে কত খরচ করা যাবে?—প্রশ্নটি কিন্তু এসে যায়। বর্তমানে বইয়ের বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুক হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম, সেখানেও ১ ডলার ব্যয় করে একটি বই বিক্রি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, ১০ ডলার খরচ করার পরও কোনো বইয়ের একটি অর্ডারও আসে না।
এখানে এস্টাবলিশমেন্ট অনেক বড় ব্যাপার। যে চা আপনি ফুটপাতে খাবেন, সেই চায়ের যে দাম; ফাইভ স্টার হোটেলে ডেফিনেটলি সেই দাম না। অথচ উপাদানে হয়তো খুব একটা তারতম্য নাই। এখানেই প্রধান সমস্যা। আমাদের এখানে যদি ৩০০ টাকার একটি বইয়ে, যদি ধরেন আমি ৩০ টাকা বরাদ্দ রেখেছি, সেই ৩০ টাকা খরচ করলেই ওই বইটা বিক্রি হচ্ছে। তাহলে কিন্তু আমরা সহজে বিজ্ঞাপন দিতে পারি। কিন্তু তা তো আর হয় না।
আরেকটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে, আমরা অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে যে যাবো, সেই মিডিয়াগুলোর যে ব্যাপ্তি সেখানে কিন্তু ফেসবুকের মতো ১০ ডলারেও বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্ভব না। আরও বেশি বাজেট প্রয়োজন। বই মার্কেটিংয়ে বিনিয়োগ বলতে গেলে নাইনটি পারসেন্ট জলে যায়। কিন্তু এখন যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে সেই বাস্তবতায় আমাদের প্রধান কাজ বই প্রকাশ করা, এতে সত্তা হিসেবে টিকে থাকা যায়। আর সময়টা এখন টিকে থাকার।
রাইজিংবিডি: বাস্তবতা অনেকটাই এ রকম!
মাহাবুব রাহমান: হ্যাঁ, আর এগুলো বলার কারণ হচ্ছে, লেখকরা বুঝতে পারবেন প্রকাশকেরা কীভাবে কাজ করছেন।
রাইজিংবিডি: তাহলে প্রকাশনা শিল্প টিকে থাকবে কীভাবে? যাদের ফেসভ্যালু কম, নতুন লেখক—তাদের বই কীভাবে প্রকাশিত হবে?
মাহাবুব রাহমান: রূপকথার ওই যে রাজকুমারী, তাকে উদ্ধার করতে হলে আগে দানবকে মারতে হবে। রাজকুমারের যে সক্ষমতা তা দিয়ে বিশাল দানবের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব না। তাহলে পায়েন্টটা কী?—পয়েন্টটা হলো রাজকুমারীকে উদ্ধার করতে হলে ওই দানবের প্রাণ ভোমরা কোথায় আছে, সেটা আগে খুঁজে বের করতে হবে। পাবলিশিংয়ের ক্ষেত্রেও এখন তাই। আপনি যেহেতু একজন লেখক, সেজন্য অনেক খুঁটিনাটি অনেক বিষয় শেয়ার করতে চাই—আমাদের রেভিন্যু সংকট সম্পর্কে অধিকাংশ প্রকাশকের ক্লিয়ার ধারণা নেই, লেখকদের তো নেই-ই। অনেক লেখক মনে করেন, তার কাজ হচ্ছে শুধু লেখা। লেখক হিসেবে ডেফিনেটলি বই লেখা প্রধান দায়িত্ব। এখন ধরা যাক আপনি গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের বই লিখছেন কিন্তু বাংলাদেশে ওই স্ট্যান্ডার্ডের পাঠক নেই। আপনার বই হয়তো চলবে ৫০ কপি। এখন বাংলাদেশে বই প্রোডাকশনের যে বাস্তবতা সেখানে ৩০০ কপি বই বিক্রি হলে বিনিয়োগ রিটার্ন আসে। যে লেখকের ৫০ কপি বই চলবে, সেখানে বিনিয়োগ করে আমি কেন পুরো প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিতে ফেলবো?
উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের মেধাগুলোকে সরকার লালন-পালন করে। প্রকাশককে আর রিস্ক নেওয়া লাগে না। অর্থাৎ আপনি যদি ওই ধরনের রিসোর্সফুল লোক হন, তাহলে সরকারই একটা বড়সংখ্যক বই কিনে নেবে। কিন্তু আমাদের এখানে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এই সিস্টেম চালু হয়নি। ফলে বই প্রকাশের যে দায়িত্ব, এই দায়িত্ব প্রকাশকদের নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
রাইজিংবিডি: প্রকাশনা শিল্প নিয়ে সরকারের পদক্ষেপগুলো কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মাহাবুব রাহমান: দেখা যায় যে, অনেক ভালো পাণ্ডুলিপি অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। আমাদের সরকারের এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র নজর নাই। সরকার এটাকে শুধু একটি বিজনেস মনে করে। প্রকাশনা বিজনেসের সাথে যে মেধাসত্ত্ব রক্ষার প্রশ্ন আছে, জাতি রক্ষার প্রশ্ন আছে, প্রজন্মকে তৈরি করার প্রশ্ন আছে— বাংলাদেশের সরকার এই প্রশ্নগুলো কখনোই উপলব্ধি করতে চায় না। সত্যিকথা বলতে বাংলাদেশে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খুব কঠিন একটা সময় পার করছে। করোনার সময়ও আমরা এ ধরনের চ্যালেঞ্জ ফেস করি নাই, বিগত বছরখানিক সময় ধরে আমরা যে সমস্যা ফেস করছি। সত্যিকথা বলতে, এই সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো পদক্ষেপও আমরা দেখিনি।
রাইজিংবিডি: আপনি সাংবাদিকতা করেছেন। প্রকশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা কেন হয়েছিল?
মাহাবুব রাহমান: আমি ছাত্রজীবনে লেখালেখি করতাম। ফলে আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের, তাদের বাবা-মায়েরা চান সন্তানেরা পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করুক। আমার বাবা-মাও তাই চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল চাকরি করবো না। কিন্তু কী করবো, সেটা আমি শিক্ষা জীবনে সুনির্দিষ্ট করে অতটা ভাবিনি। ইউনিভার্সিটি লাইফে দু’একটি প্রকাশনীর সঙ্গে টুকটাক সম্পাদনার কাজ করতাম। যখন পড়াশোনা শেষ, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে চাপ এলো কিছু একটা করার। তো তখন চিন্তা করে দেখলাম, যেহেতু প্রকাশনার বিষয়গুলো টুকটাক জানি, সেই চিন্তা থেকে প্রকাশনী গড়ে তুললাম। আরেকটা চিন্তা ছিল প্রকাশনীর কাজ করবো, সঙ্গে নিজে লেখালেখিও করবো। কিন্তু এটা ২৪ ঘণ্টার কাজ। নিজের লেখালেখিটা আর হলো না।
রাইজিংবিডি: হ্যাঁ, প্রকাশকের কর্মপরিধি অনেক বড়! স্বাভাবিকভাবেই তাকে অনেকগুলো বিষয় ভাবতে হয়।
মাহাবুব রাহমান: কত ধরনের যে ইস্যু থাকে! অপারেশনাল যে অ্যাক্টিভিটিস, এই কর্মপরিধি আসলে বাইরে থেকে দেখে বোঝা সম্ভব না। ধরুন বাংলাদেশের কনজিউমার প্রোডাক্ট তৈরি করে যারা, কোনো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের যতগুলো টাইটেল আছে, বলতে গেলে আমাদের ততগুলো টাইটেল আছে। ধরুন ‘আদর্শে’র ৬০০ বই বা টাইটেল আছে। এখন এই যে ৬০০ টাইটেলের যে ব্যবস্থাপনা বা কোর ম্যানেজমেন্ট তা কিন্তু ওই কনজিউমার কোম্পানির ব্যবস্থাপনার প্রায় কাছাকাছি! কাজের পরিধিটা ওই রকম; হয়তো ভলিউমটা কম।
যে কোম্পানি চানাচুর তৈরি করে, সে কিন্তু বারবার রিপ্রোডিউস করে যাচ্ছে, এই কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট আর একটি নির্দিষ্ট পলিসি থাকলেই হচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রতিটি বইয়ের আলাদা পলিসি প্রয়োজন হচ্ছে। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে রিটার্ন, এটা একটা বড় ব্যাপার। যখন রিটার্ন না-আসে তখন প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি তৈরি হয়।
রাইজিংবিডি: তাহলে ভারসাম্যটা কীভাবে তৈরি হয়? বিনিয়োগ তুলে আনার জন্য প্রতিটি বই বিবেচনায় নিতে হয়, নাকি গড় হিসাব করলেই হচ্ছে?
মাহাবুব রাহমান: প্রত্যেকটি বই আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়ার সময় চলে এসেছে। যেটা আমরা আগে হিসাব করতাম না। কিছু বই আছে যেটা ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কপি বিক্রি হয়। সেই বইগুলো আমাদের টিকিয়ে থাকার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
রাইজিংবিডি: বইগুলো কোন জনরার?
মাহাবুব রাহমান: নন ফিকশন।
রাইজিংবিডি: বইমেলা কবে থেকে শুরু হবে— এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখতে পাচ্ছি। দেশে বাণিজ্যমেলা সময় মতো হলেও বইমেলা পিছিয়ে যাচ্ছে বা দেওয়া হচ্ছে— বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
মাহাবুব রাহমান: বাণিজ্যমেলার সুবিধাটা হলো, এটা ইনডোরে হচ্ছে। আমাদের মেলাটা আউটডোরে হয়। আর বাণিজ্যমেলাটা জানুয়ারিতে হচ্ছে কিন্তু আমাদের মেলাটা যদি ফেব্রুয়ারিতে হয় তাহলে একেবারে নির্বাচনের মধ্যে পড়ছে। এ জন্য পেছানো হয়েছে। বইমেলা যে পিছিয়ে গেলো, এর প্রভাব খুবই সুদূরপ্রসারী। আমরা এখনও অনিশ্চিত যে বিনিয়োগ আদৌ ফেরত আসবে কিনা। মোটা দাগে রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার জায়গা থেকে এর আগেও করাটা সম্ভব না। আবার ঈদের পরে বইমেলা করার বিন্দুমাত্র বাস্তবতা নেই। কারণটা প্রাকৃতিক।
যদিও এই পেছানোর ফলে ডেফিনেটলি অনেক বড় ঝুঁকি আছে। সরকারের দিক থেকে প্রশ্নটি নিয়ম রক্ষার। এখানে প্রকাশকের যেমন স্বার্থ আছে, তেমনি লেখকেরও স্বার্থ আছে; পাঠকেরও স্বার্থ আছে। প্রশ্নটা হচ্ছে— লেখক এবং পাঠকের স্বার্থের মাঝখানে প্রকাশকের অবস্থান। এই কেন্দ্রটা যদি নষ্ট হয় তাহলে লেখক-পাঠক উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়বেন।