ইংরেজি, স্প্যানিশ থেকে বিস্তর অনুবাদের পাশাপাশি রাজু আলাউদ্দিন লিখে চলেছেন দেশি-বিদেশি সাহিত্য নিয়ে। তিনি বাংলাসাহিত্যে ন্যানো উপন্যাস, গল্প ও কবিতার কাঠামোগত রূপরেখা তৈরি করেছেন। আসছে বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তার একাধিক বই। লেখক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সাহিত্য সম্পাদক রাজু আলাউদ্দিনের সঙ্গে এই কথোপকথনে উঠে এসেছে তার সাহিত্যভাবনা, নতুন বই, বইমেলা নিয়ে নানা কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বরলিপি।
রাইজিংবিডি: একটি প্রবন্ধে আপনি ন্যানো কবিতা, গল্প এবং ন্যানো উপন্যাস সম্পর্কে রূপরেখা দিয়েছেন। যেখানে উপন্যাস ১৫০০ শব্দে, গল্প-প্রবন্ধ-নাটক ৩০০ শব্দে আর কবিতা সর্বোচ্চ ৩০ শব্দে লেখার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আর একটি ন্যানো সিনেমার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মিনিট। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন যে, যারা ন্যানো সাহিত্যচর্চা করতে চান তাদের করণীয় কী? এই ধারণা আপনি কোথায় পেলেন?
রাজু আলাউদ্দিন: ওটা প্রবন্ধের মতো দেখালেও, ওটা ছিল আসলে ন্যানো ইশতেহার। কী করণীয় সেটা কিন্তু ওই ইশতেহারেই আাছে। ধারণাটি কীভাবে এবং কোথায় পেলাম সেটাই বরং বলি। সাহিত্যের বিভিন্ন জনরায় সংক্ষিপ্ত হওয়ার একটা প্রবণতা বহু আগে থেকেই ছিল। যেমন ধরুন, সংস্কৃত কবিদের কোনো কোনো কবিতায় মাত্র চার লাইনে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির কথা বলা হয়েছে। তারা এভাবেও সাফল্য দেখিয়েছেন। কিংবা খৈয়ামের রুবাইগুলো দেখুন। সাফ্ফো বা কাতাল্লুসের কবিতাও প্রায় ওরকমই। কিন্তু বাংলা কবিতা কেবল নয়, কথাসাহিত্যও বাগাড়ম্ব স্বভাবে দুষ্ট। তিরিশের আগে পর্যন্তও এর ধারাবাহিকতা ছিল, পরেও অব্যাহত রয়েছে। তবে তিরিশের কেউ কেউ আমাদের বাকসংযমী হতে শিখিয়েছেন। কিন্তু তা কোনোভাবেই ন্যানো স্বভাব ও আয়তনের অনুকূল ছিল না। যদিও তিরিশোত্তর কোনো কোনো কবিতার অংশবিশেষকে ন্যানো কাব্যের নমুনা হিসেবে নেওয়া যায়, যেমন আমি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের একটি কবিতা থেকে অংশবিশেষ কেটে এনে দেখিয়েছিলাম ওই ইশতেহারে।
বিশ শতক জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমন সব প্রযুক্তির আবিষ্কার ঘটেছে যা মানুষের পরিবহনকাল সংকুচিত করে নিয়ে এসেছে। আর এই নতুন শতাব্দিতে কেবল যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, অসংখ্য ক্ষেত্রে গতিকে আরও দ্রুততর করে তুলেছে। এবং সেল ফোনের মাধ্যমে বিশ্বজগৎ মুঠোয় পুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বটাকে আপনি মুঠোয় নিয়ে হাঁটছেন। এসবই সম্ভব করেছে ন্যানো প্রযুক্তি। তাহলে ন্যানো সাহিত্যই-বা নয় কেন? জাপানি ভাষায় হাইকু এবং তানকা ফর্ম থাকলেও বাংলায় আমরা সেরকম কোনো ফর্ম আবিষ্কার করিনি। না করার কারণ, বাঙালি স্বভাব আড়ম্বরে ও অতিকথনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। স্প্যানিশ ভাষার মতোই বাংলা খুবই আবেগপ্রবণ ও আলঙ্কারপ্রবণ, বেশি কথা বলার ঝোঁক তার স্বভাবের অংশ। বোর্হেসই প্রথম স্প্যানিশ ভাষার ভেতর থেকে সবরকম গাদ চিপে বের করে ফেলে দিয়েছিলেন। সংযমকে প্রায় ক্ষুধামান্দ্যের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক এ কারণে তিনি উপন্যাস নামক শিল্পপ্রকরণকে অস্বীকার করেছিলেন। উপন্যাস এক স্বভাব-বাচাল কাঠামো।
কাফকার কোনো কোনো প্যারাবলে বাচনিক এই সংক্ষিপ্ততা আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, যেমন তার Before the Law নামক ছোট্ট প্যারাবলটিতে, মিতকথনের শিল্প চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। আমি ন্যানো শিল্পদৃষ্টিকোণ থেকে একে একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস বলবো। সাহিত্যের এসব নমুনা লক্ষ্য করে আমার মনে হয়েছিল, সাহিত্যকে সচেতনভাবে ন্যানো রূপে ফিরিয়ে নিলে দুটো কাজ সম্পন্ন হতে পারে। এক. আমাদের বাঙালি স্বভাবের বাচালতা থেকে সাহিত্যকে মুক্ত করা, অন্যদিকে, অতীতের তুলনায় মানুষ এখন এক জীবনে বহু কিছুর সাথে যুক্ত হয়ে যায়; ইন্টারনেট আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে বটে, কিন্তু দীর্ঘ সময় দীর্ঘ কিছুতে লিপ্ত থাকার ধৈর্য সে সংকুচিত করে নিয়ে এসেছে। অতএব, এমন যুগের এই চরিত্র লক্ষ্য করে এমন এক শিল্পরূপ ও কাঠামো দাঁড় করাতে হবে যা মানুষের সাহিত্যিক চাহিদা মেটাবে আবার তার সময়ের সাশ্রয়ও ঘটাবে।
আমি একটু আগে হাইকুর কথা বলছিলাম। আমার প্রস্তাবিত ন্যানো কবিতা হাইকুর মতো সংক্ষিপ্ত হলেও তা স্বভাবে হাইকু থেকে আলাদা। হাইকু, একটি মুহূর্তের ক্ষুদ্র এক উদ্ভাস অবলম্বন করে রচিত। কিন্তু ন্যানো কবিতা মুহূর্তের ক্ষুদ্রতা অবলম্বন করে নয়, বরং যে-কোনো বিষয়ের সামগ্রিকতাকে সে মিতভাষিতায় প্রকাশ করবে শৈল্পিক সংযম অবলম্বন করে। কাফকার ওই প্যারাবলে একটি ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের চরিত্রকে ঠিক যেভাবে সামগ্রিক রূপকে তুলে ধরেছে, ঠিক তেমন। সংক্ষিপ্ত হওয়া মানে খণ্ডিত নয়। পদার্থবিজ্ঞানে মহাসংকোচন (Big crunch) বলে যে ধারণা আছে, ঠিক তারই অনুরূপ কিছু।
রাইজিংবিডি: অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৬-এ আপনার নতুন কী বই থাকবে?
রাজু আলাউদ্দিন: দুটো বই অন্তত নিশ্চিত বেরুবে বলে ধারণা করছি। একটি, যেটি বছর দুই যাবৎ ঝুলে আছে, অনুবাদ সংক্রান্ত আমার বেশ কিছু লেখার একটি সংকলন—‘অনুবাদ আদর্শ ও অবহেলা’ শিরোনামে বেরুবে উজান প্রকাশনী থেকে। আরেকটি বই বেরুবে অন্যপ্রকাশ থেকে, সেটিও প্রবন্ধের বই, নাম ‘মর্ত্যলোকের সপ্তর্ষি’।
রাইজিংবিডি: চলতি বছর বইমেলা ১৯ দিন পিছিয়ে গেল, একজন লেখক হিসেবে এর সুবিধা পেলেন, নাকি অসুবিধা হলো?
রাজু আলাউদ্দিন: যদি লেখা এবং বই প্রকাশের কথা লক্ষ্য করে প্রশ্নটি করে থাকেন, তাহলে বলবো এই পিছিয়ে যাওয়া আমার লেখা এবং বই প্রকাশে কোনো প্রভাবই ফেলছে না। এর কারণ, আমি মৌসুমী লেখক নই, সার্বক্ষণিক লেখক। ফলে, মেলা আসন্ন বলে আমাকে লিখতে হবে, তেমনটা আমার জীবনে ঘটেনি। তাছাড়া, মেলায় যা বেরুবার তা আমি মেলা শুরু হওয়ার বহু আগেই প্রস্তুত করে রাখি। সুতরাং মেলার পিছিয়ে যাওয়ায় আমার লাভ বা ক্ষতি কোনোটাই হয়নি।
রাইজিংবিডি: শিল্প সমালোচনার ক্ষেত্রে আপনি ‘শৈল্পিক প্রণোদনা’র বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একটি কবিতা বা গল্পে কোন-কোন বিষয়ের উপস্থাপন থাকলে শৈল্পিক প্রণোদনা ঠিক থাকে বলে মনে করেন?
রাজু আলাউদ্দিন: যে-কোনো শিল্পমাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রে শৈল্পিক প্রণোদনার ব্যাপারটাই তো আসল, তাই না? এমন কি সমাজ বাস্তবতা জাতীয় যে-সব লেখার কথা আমরা বলি, তা যদি শেষ পর্যন্ত শিল্পসম্মত না হয়, তা কখনো টিকে থাকে না। হোমারের ‘ইলিয়াড’ পড়লে সেই সময়ের সমাজবাস্তবতা জানা যায় ঠিকই, কিন্তু এটি যদি শৈল্পিক মানের বিচারে গৌণ কিছু হতো তাহলে সাহিত্যরসিকদের আদর পেত না, বড় জোর গবেষক বা ঐতিহাসিকদের জন্য আকরগ্রন্থ হিসেবে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের খোরাক হয়ে থাকতো। কবিতা, গল্প বা উপন্যাস, এসব শৈল্পিক যে-প্রকরণেই লেখা হোক না কেন সেখানে লেখকের দক্ষতা, নৈপুণ্য এবং উপস্থাপনার রীতির মধ্যে যদি ঔজ্জ্বল্য ও পরিশীলিত রুচির ছাপ না থাকে তাহলে সেই রচনা সফলতা পাবে না।
কোন-কোন বিষয়ের উপস্থাপন থাকলে শৈল্পিক প্রণোদনা বুঝাবে তা এক কথায় বলা খুব মুশকিল। যেমন ধরুন, কোনো কোনো কবিতা উপমা অলঙ্কারে সার্থক একটি কবিতা হয়ে উঠতে পারে। আবার এমন কবিতাও আছে যেখানে উপমা বা অলঙ্কার নেই, সেটিও সার্থক কবিতা হয়ে উঠতে পারে। ওই যে রবীন্দ্রনাথের একটি গান আছে না, যেখানে বলা হচ্ছে: ‘আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলঙ্কার।’
লাতিন আমেরিকার এমন কোনো কোনো কবি আছেন যাদের কবিতা বক্তব্য প্রধান, কিন্তু তারপরও সেটি এক সফল কবিতা। যেমন এর্নেন্তো কার্দেনালের এমন কিছু কবিতা আছে, কিংবা নিকানোর পাররার কবিতাও আছে। সুতরাং শৈল্পিক প্রণোদনা বলতে অলঙ্কারপূর্ণও হতে পারে, আবার অরঙ্কারবিহীনও হতে পারে। কিন্তু অলঙ্কারবিহীন না হওয়া মানেই শিল্পবর্জিত নয়। অলঙ্কার ছাড়াও সে শিল্পিত হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ তার বলার ধরনের এমন এক আকর্ষণীয়, কুহকী, কিংবা দক্ষতা থাকতে হবে যা শেষ পর্যন্ত বক্তব্যকে কাব্যোত্তীর্ণ করে তুলবে।
রাইজিংবিডি: বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে রাজু আলাউদ্দিন আর হোর্হে লুইস বোর্হেস এখন অনেকাংশে একসাথে উচ্চারিত হয়। বোর্হেস-এর অনেক লেখা আপনি অনুবাদ করেছেন। আমার প্রশ্ন হলো— বোর্হেসের প্রতি আপনার ভালো লাগা শুরু হলো কবে, আর তা দীর্ঘমেয়াদে টিকে আছে; তার কারণই-বা কী?
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, এটা ঠিক যে দীর্ঘদিন বোর্হেস নিয়ে লিপ্ত থাকার কারণে আমার নামটি উচ্চারণের সঙ্গে বোর্হেস এসে যায়। এতে একটা ক্ষতিও হচ্ছে—যদিও পরিচিতির ব্যাপারে আমি লাভ-ক্ষতির কথা মোটেই ভাবছি না। তবে যারা আমার সম্পর্কে সামান্য হলেও কৌতূহল দেখাচ্ছেন তাদের কাছে একটা অসম্পূর্ণ বার্তা যাচ্ছে, আর সেটা হলো এই যে, আমি যেন শুধু বোর্হেসই চর্চা করেছি। আমি তো শুধুই বোর্হেসে লিপ্ত থাকিনি, আমি লাতিন আমেরিকান সাহিত্য নিয়ে লেখার আগে ইউরোপিয় সাহিত্য নিয়ে লিখেছি। এখনও আমি ইউরোপিয় কোনো না কোনো লেখক নিয়ে লিখছি বা অনুবাদ করছি। বছর কয়েক আগে ভলতেয়ার নিয়ে বই লিখেছি। কাফকা এবং হাইনে নিয়ে এই কিছুদিন আগেও লিখেছি। আর এসবের পাশাপাশি সেই শুরু থেকেই আমি বাংলা সাহিত্যের লেখকদের নিয়েও লিখছি। আমার নামের সঙ্গে শুধু বোর্হেস উচ্চারিত হওয়ায় আমার এই কর্মকাণ্ডগুলো অনেকটা আড়াল হয়ে যায়। তাতে করে পাঠক কেবল খণ্ডিত আমাকেই দেখেন।
যাই হোক, বোর্হেসের প্রতি আমার কৌতূহলের সূচনা সেই আশির দশক থেকেই, কবি রফিক আজাদের অনুবাদে বোর্হেসের ‘ছোরা’ নামক একটি কবিতা পাঠের মাধ্যমে। এরপর, প্রবাসে থাকা আমার বন্ধুবান্ধবদের বলে বোর্হেসের বই আনিয়ে পড়তে শুরু করি। একদিন আমেরিকান কালচারাল সেন্টারে(USIS) American Poetry Review পত্রিকায় তার একটা দীর্ঘ সাক্ষাৎকার পড়ে এতই মুগ্ধ হলাম যে সেটি অনুবাদ করে ফেলি। সেই সাক্ষাৎকার পড়ে বোর্হেস সম্পর্কে আমার আগ্রহ প্রায় স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশেও সেই নব্বইয়ের দশকে পেঙ্গুইন থেকে প্রকাশিত বোর্হেসের Labyrinth, Book of Sand ইত্যাদি বই কিনেছিলাম।
বোর্হেস পড়তে গিয়ে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, তিনি আমার পড়া অন্য সব লেখক থেকে মেজাজে, ভাবনায় এবং শৈল্পিক প্রবণতায় খুবই আলাদা। এক সময় সিদ্ধান্ত নেই বাংলা ভাষায় তাকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তুলতে, সেই লক্ষ্যেই আমি তার লেখা অনুবাদ করেছি, তাকে নিয়ে লিখেছি এবং চার খণ্ডে তার নির্বাচিত লেখা গ্রন্থাকারে আমার সম্পাদনায় প্রকাশ করেছি সেই ২০১০ সালে। যদিও পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত ছিল প্রকাশের দশ বছর আগেই। কিন্তু বিদেশে চলে যাওয়ায় প্রকাশে দশ বছর বিলম্ব হয়েছে।
বোর্হেসের প্রতি আমার আগ্রহ দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার পেছনে অনেক কারণ। বোর্হেস লেখক হিসেবে এক অসামান্য শিল্পী, নানা দিক থেকেই তিনি লেখকদের জন্য গুরু। গল্পে তিনি এতই অসামান্য এক ব্যক্তিত্ব যে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের লেখকও তার প্রশংসা না করে পারেন না। প্রবন্ধেও তিনি একেবারেই প্রথাবিরোধী। তিনি এমন এক লেখক যার কাছ থেকে অনবরত শেখার রয়েছে। তিনি এক অফুরান পাওয়ার হাউজ। তিনি এককভাবে আমাদের শিল্পদৃষ্টিকে নতুনভাবে বিন্যাস্ত করেছেন।
রাইজিংবিডি: শিল্পের সামাজিক মূল্য বিষয়টাকে কীভাবে বিচার করেন?
রাজু আলাউদ্দিন: শিল্পের সামাজিক মূল্য তো আছেই, চিরকালই ছিল। শিল্পের সামাজিক ভূমিকা আছে বলেই তার সামাজিক মূল্য আছে। এমনকি, শিল্পের জন্য শিল্প বলে যে-ধারণাটি নান্দনিক প্রকরণ ও সৌন্দর্যের প্রতি নিবেদিত তারও আছে সামাজিক মূল্য। কারণ তা মানুষকে শিল্পিতস্বভাবে রূপান্তরে ভূমিকা রাখে। এই ভূমিকার কারণে মানুষ শিল্পরুচিসম্পন্ন হয়ে উঠে সমাজ বা সামাজিক মূল্যবোধকে বদলাতে থাকে। শিল্প সমাজবিচ্ছিন্ন কোনো কর্মকাণ্ড নয়। যদিও শিল্পের জন্য শিল্প নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রচিত নয়, কিন্তু তা না হলেও ওই তিনটি ক্ষেত্রেই তার প্রচ্ছন্ন ভূমিকা থাকেই।