সাক্ষাৎকার

বইমেলা বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করা উচিত : শিবু কুমার শীল

শিবু কুমার শীল তরুণ প্রচ্ছদশিল্পী। সংগীতশিল্পী হিসেবেও তিনি সমধিক পরিচিত। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে আমরা তরুণ লেখক, প্রকাশক, পাঠকের মতামত জানার চেষ্টা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রকাশিত হলো শিবু কুমার শীলের সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কাজী আশরাফ  রাইজিংবিডি : বইয়ের ক্ষেত্রে প্রচ্ছদ কতটা ভূমিকা রাখে?শিবু কুমার শীল : বইয়ের ক্ষেত্রে মলাট হচ্ছে একটা উপাদান মাত্র; বাঁধাই, কাগজ, ইত্যাদির মতো। আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই এবং একটা বই এর সর্বপ্রধান বিষয় হচ্ছে কন্টেন্ট। তবে মলাট-এর নকশা বইয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত, নয়তো ক্রেতা বিভ্রান্ত হতে পারেন।রাইজিংবিডি : এখন বইয়ের প্রচ্ছদে কম্পিউটারে গ্রাফিক-এর কাজ বেশি লক্ষ্য করা যায়। এতে নতুনত্ব আসছে ঠিকই কিন্তু পেইন্টিং, ড্রইং, ছাপচিত্র এগুলোর ব্যবহার কমে যাওয়ার ভেরিয়েশন পাওয়া যাচ্ছে না- আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?শিবু কুমার শীল : বইয়ের প্রচ্ছদে রং-তুলি বা ডিজিটাল মোটিভ যাই ব্যবহার হোক না কেন এটা আমার কাছে কোন ইস্যু নয়। তার কারণ আমি মনে করি, দিন শেষে কনসেপ্টটাই মুল কথা। কেউ একজন রং-তুলি নিয়ে কাগজের উপর ঝড় তুলল কিন্তু বইয়ের বিষয়বস্তু থেকে দূরে তখন সবটাই মাটি হয়ে যাবে। কনসেপ্ট অ্যান্ড  ভিজুয়ালাইজেশনটাই জরুরি বিষয়, কোন ফরমেটে শিল্পী কাজ করছে সেটা আমার কাছে বিষয় না। তবে হ্যাঁ আমরা বর্তমানে মলাটের নকশার ক্ষেত্রে প্রচুর ক্লিশে ইমেজ দেখি, বিশেষ করে একই ধরনের নারী মুখ বা চোখের ব্যবহার, এই ক্লিশে মোটিভ সকল ফরমেটেই লক্ষ্য করা যায়। তার উপর গুগল-এর অবাধ ব্যবহার। মলাটের ভিন্নতা নষ্ট হওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ। তবে মলাটে রং-তুলির ব্যবহারের চেয়ে আমি ফটোগ্রাফ ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। যা কিনা আমাদের প্রচ্ছদে একটা বড়সড় ভিন্নতা আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রপার ক্রেডিট লাইন দেয়াটাকেও মাথায় রাখতে হবে।