আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে চাঞ্চল্যকর ১৯টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা বলছে, ডাকাত সর্দার সোহরাব হাওলাদার নেতৃত্বে ডাকাতি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, সাম্প্রতি সময়ে ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, বরিশালসহ ঢাকার পাশের জেলাগুলোতে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়ারহাট বাজারের ১৯টি স্বর্ণের দোকান থেকে অজ্ঞাতনামা ২০/২২ জন সশস্ত্র ডাকাত স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার এবং নগদ টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। পরে সিআইডির একাধিকদল ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ডাকাতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ওই ডাকাতিতে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক ডাকাত মো. শাহিনকে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার সহযোগিতা নিয়ে ডাকাতিতে ব্যবহৃত স্পিডবোটটি মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া বাজার ঘাট থেকে জব্দ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে মো. দানেশ ফকিরকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে লুন্ঠিত স্বর্ণ ও রুপা ক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় ২৮ সেপ্টেম্বর মো. সুমন মিয়াকে রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী সোহরাব হাওলাদারকে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নয়াবাজার এলাকার আসামি আ. রহিমের ভাড়া করা বাসা থেকে আশুলিয়ার ডাকাতির ঘটনায় লুন্ঠিত ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, আশুলিয়ায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যে ধানমন্ডি রাপা প্লাজার স্বর্ণের দোকানে চুরির মামলার রহস্যের জট খোলা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আসামি সবুজ রায় ও আ. রহিম রাপা প্লাজা স্বর্ণের দোকানে চুরিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং সোহরাব ও দেলোয়ারসহ আরও ৩/৪ জনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। সবুজ এবং রহিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডিএমপির কোতয়ালি থানার ইসলামপুর এলাকায় সবুজের ভাড়া বাসা থেকে রাপা প্লাজার চোরাই যাওয়া স্বর্ণ থেকে আনুমানিক ১২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাপা প্লাজা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায়, রাজলক্ষ্মী জুয়েলার্সে চুরি হয়।