আইন ও অপরাধ

পু‌লিশ কর্মকর্তা হা‌মিদুলের প‌রিবা‌রের ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাবেক উপ-কমিশনার ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হামিদুল আলম, তার স্ত্রী ও তিন বোনের অবৈধ সম্প‌দ আছে ৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকার। 

হা‌মিদুল আলমের প‌রিবা‌রের জ্ঞাত আয়ব‌হির্ভূত এই বিপুল সম্প‌দের খোঁজ পে‌য়ে‌ছে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন (দুদক)। এ অভিযো‌গে তা‌দের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবা‌গিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তি‌নি জানান, দুই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামিদুল আলম দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিবৃতি প্রদান করেন। একইসঙ্গে তিনি অবৈধ পন্থায় ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখেন।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (পুলিশ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিন বোনের নামে ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেন হামিদুল আলম। পাশাপাশি পরস্পর যোগসাজশে সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা স্থানান্তর বা হস্তান্তর (লেয়ারিং) করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম মামলায় মো. হামিদুল আলমের সঙ্গে তার তিন বোন মোছা. আজিজা সুলতানা, মোছা. আরেফা সালমা ও মোছা. শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে।

অপর মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামিদুল আলমের স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে স্বামীর অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখেন।

এতে বলা হয়, স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দ্বারা শাহাজাদী আলম লিপি ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেন এবং সম্পদের উৎস গোপন বা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর (লেয়ারিং) করেন।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে হামিদুল আলমের স্ত্রী মোছা. শাহাজাদী আলম লিপিকে এবং সহযোগী আসামি করা হয়েছে হামিদুল আলমকে।