প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে ৯ম পে স্কেলের দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে এক পর্যায়ে তারা যমুনার সামনে থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।’’
উল্লেখ্য আজ সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশের পর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা ব্যারিকেড ভেঙে ‘যমুনা’ ঘেরাও করেন।
আন্দোলনরত কর্মচারী আজকের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করার দাবি জানান। এবং বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টিকে তারা ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই বড় বাজেটের (প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
এর আগে টানা কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সময়ব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছিলেন সরকারি কর্মচারিরা। আজকের এই ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচি ছিল তাদের পূর্ব ঘোষিত।