পুলিশ বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইজিপি নিয়োগ এবং বাহিনী ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
জানা গেছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি সরকার পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকিরকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান এবং অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিসিএস (পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তিনি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলী হোসেন ফকিরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং ধাপে ধাপে পদোন্নতি পান।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব এবং পেশাদার করে তুলতে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ প্রশাসনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জ ও জেলাগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। বাহিনীর জনবল সংকট কাটাতে এবং সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি ২৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অন্যদিকে, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ‘পুলিশ কমিশন' গঠনের আলোচনা চলছে। যদিও এই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও টিআইবির মতো সংস্থাগুলো গঠনমূলক সমালোচনা ও সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো আবারো যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এছাড়া বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় যারা মূল আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি পুলিশের গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং দ্রুত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। আর নতুন আইজিপি হিসেবে তার ওপর মূল দায়িত্ব হলো পুলিশের ভেঙে পড়া চেইন অফ কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করা। সদ্য বিদায়ী আইজিপি, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাহিনীর পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শেখ সাজ্জাদ আলী-যিনি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
এআইজি মিডিয়া এইচ এম শাহাদাত হুসাইন বলেন, “পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে আমরা নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যার মধ্যে অন্যতম আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা।”