ঈদের ছুটিতে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। এই সুযোগে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নগরজুড়ে স্থাপিত হাজারো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
জানা গেছে, ফাঁকা ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তায় ডিএমপির প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য পর্যায়ক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি র্যাবের কয়েকশো সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন।নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ঢাকার প্রতিটি ক্রাইম জোনের ডিসি (উপ-কমিশনার) এবং এসিদের (সহকারী কমিশনার) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় টহলের সমন্বয় করছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (ডিএমপি) মো সরওয়ার বলেন, “সাধারণত ঈদ উপলক্ষে ঢাকা যখন ফাঁকা হতে শুরু করে, তখন চুরি, ছিনতাই বা মলম পার্টির মতো অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসন বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট। সন্দেহভাজন এলাকাগুলোতে নিয়মিত ব্লক রেইড বা বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা মাদক বহন করতে না পারে। পুলিশের গাড়ির টহল সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি থানার অন্তত ৩-৪টি টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক এলাকার অলিগলিতে পুলিশ সদস্যরা পায়ে হেঁটে পাহারা দিচ্ছেন। এছাড়া, যানজটহীন ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত মুভমেন্টের জন্য পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল টিম কাজ করছে।
মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমেও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে রাজধানীর কয়েক হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ফাঁকা বাড়িতে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখা এবং কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে নিকটস্থ থানা অথবা ৯৯৯-এ দ্রুত জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
র্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন (১, ২, ৩, ৪ এবং ১০) নিজ নিজ এলাকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত পেট্রোলিং করছে। বিশেষ করে প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে র্যাবের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। ফাঁকা রাস্তায় অপরাধীদের তৎপরতা রুখতে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: ভিআইপি এলাকা ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে র্যাবের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজধানীতে ঈদের ছুটিতে যাওয়া মানুষের বাসস্থান, কর্মস্থল, শপিংমলসহ অন্যান্য স্থানে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে র্যাবের নজরদারী ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, ভার্চুয়াল জগতে যেকোনো ধরনের গুজব, উস্কানিমূলক তথ্য বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে র্যাব সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে।
রবিবার (২২ মাচ) রাতে র্যাবের মিডিয়া উইং এর পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “রাজধানীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”
এদিকে, বিভিন্ন সংস্থার জরিপে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। তবে এসব মানুষ পুরোপুরি রাজধানীতে ফিরে আসতে আাগমী রবিবার হয়ে যেতে পারে। এরপরই কর্মব্যস্ত এ শহর ফিরে পাবে তার পুরনো চেহারা।