আইন ও অপরাধ

রামিসা হত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রামিসা হত্যা মামলার বিচার করার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে এ বিক্ষোভ হয়।

শুক্রবার সকাল ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে এবং পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখাসম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কালশী সড়ক অবরোধ করেন এবং পল্লবী থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এদিকে, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা আজ দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

তারা যখন সিরাজদিখানের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন, তখন বাসার সামনে জড়ো হওয়া প্রতিবেশীদের কান্নার শব্দে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। 

বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানের পারিবারিক কবরস্থানে রামিসা আক্তারকে দাফন করা হয়। 

স্বজনরা জানিয়েছেন, রামিসার মা এখনও মেয়ের জামা-কাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা রামিসার জন্য কিনে আনা শেষ উপহার বোরকার কথা মনে করে আহাজারি করছেন।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার নিজ বাসার পাশ থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে সোহেল রানা স্বীকার করেছে যে, সে রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোক বিরাজ করছে।