রোজা রাখলে সাধারণত ওজন কমে। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে উল্টো ঘটনাও ঘটে। ইফতারে আপনি হয়তো ক্যালোরির পরিমাণ নির্ধারণ করে, সেই অনুযায়ী খাবার খাচ্ছেন; তারপরেও ওজন বেড়ে যাচ্ছে। কেন এমন হয় জানেন? স্লিম হওয়ার চেষ্টায় যারা নিয়মিত লড়াই করছেন, তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন কেউ বেশি খেয়েও স্লিম থাকেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন Stanford University এবং Harvard Medical School-এর গবেষকেরা।
গবেষকদের মতে, মোটা বা স্লিম হওয়া শুধু খাবারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; এর নেপথ্যে কাজ করে বিপাকহার, পেশির ঘনত্ব, হরমোন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য।
বিপাকহার বা মেটাবলিজমের ভূমিকা প্রত্যেক মানুষের বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর) আলাদা। এটি হলো শরীরের সেই ক্যালোরি খরচের হার, যা বিশ্রামেও পোড়ে। যাদের বিপাকহার বেশি, তারা বেশি খেয়েও দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে পারেন।যাদের বিপাকহার কম, তাদের ক্ষেত্রে অল্প খেলেও ক্যালোরি জমে চর্বি হতে পারে।
পেশির ঘনত্ব পেশি ক্যালোরি পোড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেশির ঘনত্ব বেশি হলে শরীর দ্রুত শক্তি ব্যবহার করে। নিয়মিত ব্যায়াম পেশি বাড়ায় এবং ক্যালোরি ক্ষয় ত্বরান্বিত করে।তাই পেশিবহুল মানুষ সাধারণত বেশি খেয়েও তুলনামূলক কম মেদ জমায়।
চর্বির ধরন: ব্রাউন ফ্যাট বনাম হোয়াইট ফ্যাট গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে দুই ধরনের চর্বি থাকে— ব্রাউন ফ্যাট তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে ক্যালোরি পোড়ায়। আর হোয়াইট ফ্যাট অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা রাখে। অনেক স্লিম মানুষের শরীরে ব্রাউন ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা তাদের ক্যালোরি দ্রুত পোড়াতে সাহায্য করে।
হরমোনের প্রভাব ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। তখন শরীর ক্যালোরি কম পোড়ায় এবং সহজেই চর্বি জমা হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
জিনের প্রভাব গবেষকেরা জানিয়েছেন, কিছু জিন স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন—MC4R, Leptin,BSN,NTRK2 এছাড়া FTO নামের একটি জিন স্থূল হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এই জিন উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়ায়। বিশেষ করে MC4R জিন মস্তিষ্কে ‘পেট ভরে গেছে’—এই সংকেত পৌঁছাতে দেরি করায়। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যায়।
শুধু জিন বা হরমোনকে দায়ী করলেই চলবে না। এগুলো প্রভাব ফেললেও জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয় মেনে চললে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।