লাইফস্টাইল

সেহরিতে বেশি পানি পান: উপকার নাকি ভুল ধারণা?

রোজার সময় দীর্ঘ বিরতিতে পানি না খাওয়ার কারণে সাময়িক পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়। তাই পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ জরুরি—তবে সঠিক উপায়ে। সেহরির শেষ মুহূর্তে আজানের আগে একসঙ্গে কয়েক গ্লাস পানি পান—রোজায় এটি অনেকের পরিচিত অভ্যাস।   মনে করা হয়, সেহেরিতে বেশি পানি খেলে সারাদিন কম পিপাসা লাগবে। এটি কি সত্যিই কার্যকর, নাকি কেবল মানসিক স্বস্তি?

শরীরে পানির ভূমিকা মানবদেহের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পানি দিয়ে গঠিত। পানি— রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং বর্জ্য অপসারণে ভূমিকা রাখে।

একসঙ্গে বেশি পানি খেলে কী ঘটে? পুষ্টিবিদদের মতে, একবারে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীর তা ধরে রাখতে পারে না। কিডনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি দ্রুত প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফলে সেহরির শেষ পাঁচ মিনিটে চার–পাঁচ গ্লাস পানি পান করলেও তার বড় অংশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। আমাদের শরীর স্পঞ্জের মতো নয়—একসঙ্গে ঢেলে দিলে সব জমা থাকবে না। শরীরের তরল ভারসাম্য একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া।

অল্প সময়ে বেশি পানি খেলে যে সমস্যাগুলো হতে পারে— পেটে ভারী ভাব অম্বল বা ঢেকুর  ঘন ঘন প্রস্রাব ঘুমে ব্যাঘাত খুব বিরল ক্ষেত্রে অত্যধিক পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

তাহলে পিপাসা বাড়ে কেন? রোজার দিনে তৃষ্ণা শুধু পানির ঘাটতির কারণে হয় না। সেহরিতে— অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ ভাজাপোড়া ও মশলাদার পদ খাওয়া অতিরিক্ত চা–কফি পান করা

এসব শরীরের পানি ক্ষয় বাড়ায়। লবণ তৃষ্ণা বাড়ায় এবং ক্যাফেইন মৃদু মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীর দ্রুত পানি হারায়।

কার্যকর কৌশল কী? ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টিকে একটি ‘হাইড্রেশন উইন্ডো’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই সময়ে

ধীরে ধীরে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন সেহরিতে ১–২ গ্লাস পানি যথেষ্ট, যদি আগে নিয়মিত পানি পান করা হয়ে থাকে।  শসা, তরমুজ, টমেটোর মতো পানি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন। এবং অতিরিক্ত লবণ ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন।

রমজানের শিক্ষা সংযম ও ভারসাম্যের। ধীরে ধীরে, সময়মতো ও সচেতনভাবে পানি পান—এটাই হতে পারে সুস্থ রোজা পালনের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।