সিলেটে সম্প্রতি হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ দিনে নতুন করে ৩৯ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখনো ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালকে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ৩৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। যারা ভর্তি রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা একটু আশঙ্কাজনক রয়েছে। আমরা প্রতি মুহূর্তে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক রয়েছেন, তারা আপন ভাই-বোন। এই হাসপাতালে ২০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে এবং আমাদের এখানে শিশু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। আশা করি, সিলেট অঞ্চলে হামের সংক্রামণ রোধে আমরা সেবা দিয়ে যেতে পারব।’’
শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, ‘‘সিলেটে হাম রোগের নমুনা পরীক্ষা হয় না এবং আগেও কখনো হয়নি। ঢাকার মহাখালীর ল্যাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা পাঠানো হয়। পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো সুরক্ষিতভাবে আইসোলেশনে রাখা হয়।’’
হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় এই রোগ ছড়িয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, ‘হামের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ভালো হলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। বিশেষ করে পকেট কমিউনিটি বা টিকা না নেওয়া ছোট ছোট গোষ্ঠী এই রোগের জীবাণু বহন করে, যেখান থেকে রোগ ছড়ায়।’
হামের সংক্রমণের ক্ষমতা (আরও) অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, ‘হামের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, মূলত জটিলতাগুলোর চিকিৎসা করা হয়। শিশুদের চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।’