মিডিয়া

‘জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে’

দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এতে বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সুনাগরিক। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইউনিসেফের সহযোগিতায় রাজধানীর জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। কর্মশালায় দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এতে হামের বর্তমান পরিস্থিতি, সংক্রমণের ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন বলেন, “নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আইভিডি কো-অর্ডিনেটর ড. বিনোদ কুমার বুড়া বলেন, “সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”

তিনি টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা তুলে ধরে সবাইকে টিকাদানে উৎসাহিত করেন।

ইউনিসেফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, “হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।”

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হামের বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা হামের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বাস্তবভিত্তিক তথ্য উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।