মিডিয়া

মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর নীতি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সরকার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করে না। মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর নীতি। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং অনলাইনে ভুয়া তথ্য ও চরিত্রহনন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিজইনফরমেশন মোকাবিলায় নির্ভুল সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য।”

সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ' এ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ এর সভাপতি মাসউদুল হক।  সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই এক্স্যাক্ট তথ্যই জনগণের সামনে আসুক। অনলাইনে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ কোয়াব (কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নেতারা এবং আইপিটিভি প্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ে এসে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। ২০১৪ সালের আইপিটিভি নীতিমালা সংশোধন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”

বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যম কর্মীরা কি ভয় মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত ১৭ বছর ভয়ে ছিলেন, এখনো কি ভয় পাবেন।এটলিস্ট আপনারা গত দুই মাসে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আমরা অতীতে দেখেছি কিভাবে মিডিয়াকে কন্ট্রোল করা হয়েছে মিডিয়া উইল নট বি কন্ট্রোল, মিডিয়ার স্বাধীনতা থাকবে। মিডিয়া যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এটা অব্যাহত থাকবে এইটুক আপনাদেরকে বলতে পারি। এটা প্রধানমন্ত্রীর নীতি এবং ওনার নির্দেশ যে মিডিয়া উইল নট বি কন্ট্রোল ইন এনি ওয়ে।”

তিনি বলেন, “সরকার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করে না। মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর নীতি। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।”

সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও ওয়েজ বোর্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে এবং আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কি উদ্যোগ নিবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কঠোরতা নয়, বরং সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন নিয়েও এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে কোনো গণমাধ্যম বঞ্চিত না হয় এবং বিজ্ঞাপন বণ্টনে বৈষম্য কমে।”

তিনি বলেন, “আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না বরং আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিক গণমাধ্যম গড়ে তুলতে চাই।”

এ লক্ষ্যে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ আহ্বান করেন তিনি।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান গণমাধ্যম সংস্কার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান নিয়ে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। এত বড় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জন্য যে জায়গা রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত ও অবহেলিত। এটি আধুনিকায়ন করা জরুরি।”

এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।