মিডিয়া

গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার দাবি ডিইউজের

মহান মে দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত সব গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপু ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, “শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যে কোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। তাদের অবহেলা আর বঞ্চিত করে কখনো দেশের যেকোনো ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা ভাবা যায় না।”

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, “বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীরা এখন চরমভাবে অধিকার বঞ্চিত। তারা ন্যায্য বেতন ভাতা পান না, চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই। অনেকেই মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত দুই বছর এই অবস্থা চরম আকার ধারণ করে। যা ছিল গণমাধ্যমে ইতিহাসের অন্ধকার যুগ। সেই দুঃশাসনকালে গণমাধ্যমে মব তৈরি করে আগুন দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে। যা সারা বিশ্বকেও হতবাক করেছে। সেই সময় গণমাধ্যম দখলের পাশাপাশি শত শত সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুত করার মতো ঘৃণ্য ঘটনাও দেখেছে বাংলাদেশ। এখনও বহু সাংবাদিক মিথ্যা হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। যাদের অনেকেই শারীরিকভাবে সুস্থ নন। অথচ তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।”

নেতারা বলেন, “মব তৈরি করে প্রায় তিন হাজার সাংবাদিকের সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বহু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সদস্য পদ অবৈধভাবে বাতিল করা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে নিষিদ্ধ করার মতো পৈশাচিক ঘটনাও ঘটেছে। যা সাংবাদিক সমাজকে হতবাক করেছে।”

মহান মে দিবসে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার আদায় ও মর্যাদা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করা ঐতিহ্যবাহী সংগঠন  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) মনে করে বর্তমান সময়ে দেশে যে সরকার রয়েছে তাদের সময়ে এই ধরনের অন্যায়, অবিচারের প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যদি দিনের পর দিন এভাবে নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হতে থাকেন তাহলে অধিকার আদায়ের জন্য তাদের রাজপথে নেমে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।