জাতীয়

কুটির শিল্প ঘোষণাসহ বিড়ি শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবিতে রংপুরে শ্রমিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে শ্রমিকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন সমাবেশের প্রধান অতিথি রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, বিড়ি শিল্প বন্ধ হলে দেশের ৩০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে যাবে। রংপুরের শ্রমিক ভাই-বোনেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার মানুষের অধিকার নিশ্চিৎ করতে চায়। বিড়ি শিল্প টিকিয়ে রাখাও এ খাতের শ্রমিকদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙালি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হেরিক হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি শামছুল আলম, কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা শামিম হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।  

বিড়ি শ্রমিকদের ছয় দফা দাবি হলো- ১. দেশে সিগারেট যতদিন থাকবে, বিড়ি শিল্পও ততদিন থাকবে। ২. প্রতি হাজার বিড়ি তৈরির মজুরি ১০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৩. প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালের আগে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বন্ধ করা যাবে না, ২০ লাখ বিড়ি শ্রমিক ও ১০ লাখ তামাকচাষীকে বেকার করা চলবে না। ৪. ভারতের ন্যায় বিড়ি শিল্পকে ‘কুটির শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। ৫. ভারতের মতো প্রতি হাজার বিড়িতে শুল্ক ১৪ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৬. যেসব বিড়ি কারখানা ২০ লাখ শলাকার কম উৎপাদন করে তাদের করমুক্ত রাখতে হবে। উল্লেখ্য, বিড়ির ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং সিগারেটের দাম কমে যাওয়ার কারণে সারা দেশের বিড়ি কারখানাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রংপুরের বিড়ির জন্য বিখ্যাত হারাগাছ এলাকার সর্বশেষ ৫০টি বিড়ি কারখানার মধ্যে গুটি কয়েক কারখানা কোনো রকমে টিকে আছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে এর সঙ্গে জড়িত কয়েক লাখ মানুষ।

   

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মে ২০১৮/হাসান/রফিক