জাতীয়

খুলনায় শেখ রাসেল সিভিক সেন্টার: বিনোদনে, প্রয়োজনে

হাসিবুল ইসলাম মিথুন : চিত্তবিনোদনের জন্য খুলনায় নির্মান করা হবে শেখ রাসেল সিভিক সেন্টার। এই প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি এলাকাবাসীর নাগরিক চাহিদা পূরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই সকাল ১০ টায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামীমা নার্গিসের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় প্রকল্পটির নানা দিক মূল্যায়ন করে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠালে মন্ত্রী একনেক সভায় উপস্থাপন করবেন। প্রকল্পটির সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শেখ রাসেল সিভিক সেন্টার নির্মানের জন্য মোট ১৪১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই টাকার পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে করা হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে।

প্রকল্পটির বছরভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেওয়া হবে ৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৭৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ সাল পর্জন্ত। প্রকল্পটি ২০১৮-১৯ অর্হবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দবিহীনভাবে নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।

গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটির মূল পটভূমি ও কার্জক্রম হচ্ছে- সিভিক সেন্টার শহরের এমন একটি অংশ যেখানে একটি শহরের সমগ্র কার্জক্রমগুলো ছোট পরিসরে এবং সুসজ্জিতভাবে সন্নিবেশিত থাকে। যেখানে অধিকাংশ লোকের সমাগম হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সিভিক সেন্টার একটি শহরের বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। সিভিক সেন্টার শহরের অধিবাসীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের মনের চাহিদা পরিপূর্ন হয়।

গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয় আরো জানায়, খুলনা শহরে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোন সিভিক সেন্টার নেই। শেখ রাসেল সিভিক সেন্টার নির্মান প্রকল্পটি খুলনা শহরের কেন্দ্রস্থল হতে ৬ কিলোমিটার দূরের খালিশপুর, দৌলতপুর, পাবলা ও দেয়ানার মধ্যবর্তী কেডিএ আউটার বাইপাস রোড সংলগ্ন কবির বটতলা এলাকার ১ দশমিক ৪৪ একর জমিতে স্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের সামনের দিকে ১০০ ফুট প্রসস্থ কেডিএ আউটার বাইপাস রোড বিদ্যমান রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খালিশপুর, দৌলতপুর, পাবলা ও দেয়ানা এলাকার প্রায় ৫ লাখ মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ সেমিনার-সিমপোজিয়াম ও সম্মেলনের আয়োজন করা সম্ভব হবে। ফলে ওই এলাকার জনসাধারণের সামাজক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড প্রসারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর চিত্তবিনোদন এবং নাগরিক চাহিদা পূরন হবে।

প্রকল্পটির মূল কার্জক্রমের কার্যক্রমের অংশ হিসাবে সেখানে তিনটি কনফারেন্স রুম ছাড়াও একটি করে মাল্টিপারপাস হল,অডিটরিয়াম ,জিমনেশিয়াম, রেস্টুরেন্ট, অথিতিশালা, ক্লাব হাউজ, এম্পিথিয়েটার, টেনিস কোর্ট, স্যুভেনির সপ স্থাপন করা করা হবে।

সেইসঙ্গে ৭৯৩ দশমিক ৯১ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ওয়াকওয়ে নির্মান, ১০৭১ দশমিক ১০ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ ড্রেন ও এপ্রোন নির্মানসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হবে।  রাইজিংবিডি/ ঢাকা/১ জুলাই ২০১৯/হাসিবুল/ সাজেদ