করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। লকডাউন কার্যকর করতে রাজধানীর রায়েরবাগ, কদমতলী ও সাইনবোর্ড এলাকায় তৎপর আছেন পুলিশ সদস্যরা। সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা।
এসব এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি চেকপোস্টে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন চেকপোস্ট ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
রায়েরবাগ চেকপোস্টে কথা হয় পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রতিবেদক পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় মধ্যবয়সী এক পুরুষ পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। লকডাউনের সময় কোথায় যাচ্ছেন, পুলিশ এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তিনি ভয় পেয়ে বলেন, ‘স্যার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছি। আমার মা হাসপাতালে ভর্তি।’ হাসপাতালের কাগজ দেখানোর পর তাকে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ।
আবুল কালাম নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তার বাসা নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায়। গত ২০ জুন তার মা হাসপাতালে ভর্তি হন। লকডাউনের কারণে বাস বন্ধ এবং রিকশাভাড়াও বেশি, তাই তিনি হেঁটেই হাসপাতালে যাচ্ছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম দেখা গেছে। জরুরি পণ্য বহনকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন খুব একটা চোখে পড়েনি।
রায়েরবাগ এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পথচারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করছেন পুলিশ সদস্যরা। জরুরি সেবায় নিয়োজিত মানুষজনকে পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে দেখা গেছে।