জাতীয়

বঙ্গবন্ধু যাকে ‘নৌকা আনোয়ার’ বলে ডাকতেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেনের পঞ্চদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। রংতুলি হাতে নিয়েই ২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। রেখে যান স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত অনুরাগী এবং তার মূল্যবান শিল্পকর্ম।

এই চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবির বিশিষ্ট সংগ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, নেপালের রাজা, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত, যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটো, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন, সাবেক মার্কিন ফার্ষ্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। জানিয়েছেন তার ছেলে কাজী আশিকুর হোসেন অপু। 

শিল্পীর ছেলে আরো জানান, স্বাধীনতার পর ভারতের প্রয়াত তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশে সফরে এলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই শিল্পীর আঁকা একটি ছবি উপহার দেন। যা বর্তমানে নয়াদিল্লির মডার্ন আর্ট গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই শিল্পীকে আদর করে নৌকা আনোয়ার বলে ডাকতেন। তার নির্দেশেই তিনি সারাজীবন নৌকার ছবি এঁকে গেছেন।

১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটি থেকে স্নাতক উত্তীর্ণের পর থেকেই শিল্পী আনোয়ার হোসেন নানা বৈচিত্রময় ছবি এঁকেছেন। ক্যানভাস হিসেবে দিয়াশলাইয়ের খাপের কাঠের অংশের উপর নৌকা এবং ব্যতিক্রমভাবে নদীর দৃশ্যও চিত্রায়িত করেন। এ ছাড়া তিনি ছবির উপকরণ হিসেবে আঠা, গাছের পাতা, ছাল, মাছের কাটা, হাড়, টুকরা কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করতেন। 

আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের সাড়া জাগানো ”দি ফাদার” ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়কারী তৎকালীন ইউ.এন.ডি.পি’র ঢাকাস্থ অফিসের এক কর্মকর্তা মার্কিন নাগরিক জন এডাম নেপিয়ার ঐ সিনেমায় কাজী আনোয়ার হোসেনের বেশ কিছু ছবি ব্যবহার করেন। আমেরিকায় ফেরার সময়ে শিল্পীর ছবিও সঙ্গে করে নিয়ে যান। 

১৯৮৮ সালের বন্যার ছবি এঁকে একক চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। সেই ছবি বিক্রির টাকা বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনে দূর্গত মানুষদের সহায়তায় ব্যয় করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশে বিদেশে ২২ টিরও বেশি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে তার ছবি। তার আঁকা ছবি রক্ষিত আছে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় চিত্রশালা, বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়, দেশের অনেক আর্ট গ্যালারিসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল সার্কিট হাউজে।

২০১৬ সালে শিল্পকলায় (চিত্রকলা) মাদারীপুরের এই চিত্রশিল্পী মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।

শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার কাজীবাড়ির নিজবাস ভবনসহ জেলা শহরের মসজিদগুলোতে বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন তার ছোট ছেলে আমেরিকা প্রবাসী কাজী আশিকুর হোসেন অপু।