প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া প্রতিটি বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিয়েছেন, উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। দেশ যখন বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে, তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে ব্যর্থ করতে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতে যেমন দেশের জনগণ এসব ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যালটের মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনেও বিদায় জানাবে। উন্নয়নের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আবারও বিপুল ভোটে ক্ষমতায় বসাবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রথম দিনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেকমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সরকারি দলের সাবের হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, আরমা দত্ত, সাইফুজ্জামান শিখর, মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোজাফফর হোসেন, আনোয়ারুল আবেদীন খান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, আমিরুল ইসলাম মিলন, শফিকুল ইসলাম শিমুল, বিএনপির জাহিদুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেকমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন যুগোপযোগি বাজেট উপস্থাপন করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট, সাহসী, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ কোভিড মহামারির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। পদ্মা সেতুর পর মেট্টোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল চালু হয়ে দেশের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বদলে যাবে দেশের চিত্র।’
সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার বাজেট উল্লেখ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখনই বাজেট দিয়েছে, দেশ এগিয়ে গেছে। দেশের কিছু মানুষ ও দল আছে তারা দেশের কোন উন্নয়ন চোখে দেখে না, শুধু সর্বনাশ দেখে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে তারা পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী ট্যানেল, মেট্টোরেলের মতো একটি মেগা প্রকল্প করার নজির দেখাতে পারবে? জিয়াউর রহমানের আমলে মানুষ সন্তান বিক্রি করেছে, পতিতালয়ে মেয়ে বিক্রি করেছে খাদ্যের অভাবের কারণে। আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের কী খাদ্যের কোন অভাব আছে? বেগম জিয়ার এতিমের টাকা আত্মসাৎ, দুই পুত্রের পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রমাণ রয়েছে। তারাই আজ আবার বড় কথা বলে।’
সরকারি দলের সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছে, সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। টানা তিনবার আওয়ামী লীগকে জনগণকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল বলেই দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের চিত্র বদলে গেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণ এটা মনে রাখবেন বলে আশা করি। বায়ু দূষণ, সড়ক দুর্ঘটনারোধ এবং পলিথিনমুক্ত করা যায়, সেই বিষয়ে ভাবতে হবে। প্রতি বছর এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে তামাক সেবনের কারণে। এতে ক্ষতি হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। আমরা তামাক কোম্পানিকে সুবিধা দিতে সংসদে আসিনি।’
জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি প্রস্তাবিত বাজেটকে সমন্বয়হীন, পলিথিন দূষণ ও অনৈতিক বাজেট উল্লেখ করে বলেন, ‘বাজেটে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এ বাজেট অবশ্যই গণবান্ধব নয়। মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়াবে এই বাজেট। আয় কম, ব্যয় বেশি এবং বিপুল পরিমাণ ঘাটতির বাজেট। ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের প্রবণতার কারণে কর্মসংস্থান কমবে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি অবশ্যই কমবে।’
সরকারি দলের ড. আবদুস সোবহান মিয়া বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের জীবন বদলে দিতে নির্মিত পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করা হবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, খুনীদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছে, স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছে, ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো বন্ধ করেছিল- সেই খুনী জিয়ার হাতে অবৈধভাবে গঠিত দল বিএনপির পেতাত্মারা এখন নানা ষড়যন্ত্র করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অপশক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।’