জাতীয়

ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

ভবিষ্যতে ব্যক্তি বিশেষের স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।”

এ কারণেই জুলাই সনদে সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন জনগণ ও সকল দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে সেই সাথে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সকলের মতামত প্রতিফলিত হবে।”

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে  সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  অধ্যাপক  আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। 

বিভাগীয় কমিশনার  ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার,  রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও  রাজশাহী  পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায়  রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিকগণ ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সকল মানুষের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও আমরা সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি নাই। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় বিবেচনায় ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ আমাদের তরুণরা তৈরি করে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আর যেন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় তা নিশ্চিতে দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সকলের।”

সভার বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, “গণভোট যদি ব্যর্থ হয় তাহলে পরের বার আপনার আমার সন্তানকে জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, পরের বার খুব দ্রুতই ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে।”

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ বলে উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, “ গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই, গণভোট আমাদের সবার এজেন্ডা”। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার  ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি উল্লেখ করে তিনি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।