জাতীয়

‘রেস্তোরাঁ ব্যবসা কর্পোরেট দখলে নিতে কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি’

রেস্তোরাঁ ব্যবসা কর্পোরেট কোম্পানির দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম গ্যাস সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “রেস্তোরাঁ ব্যবসা কর্পোরেট কোম্পানিগুলো দখলের উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন সংকট তৈরি করে রেখেছে। তার মধ্যে প্রধান হলো জ্বালানি গ্যাসের সংকট। গেল বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যা এখনো পর্যন্ত বর্তমান সরকার সমাধান করতে পারেনি।

“বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়,” বলেন তিনি।

ইমরান হাসান বলেন, “একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।”

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এই মহাসচিব বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও এই গ্যাস সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও তিতাস বিদ্যমান সংযোগগুলোতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি গ্যাস পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা দখল নিতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কৃত্রিমভাবে গ্যাস সংকট তৈরি করেছে।”

ইমরান হাসান বলেন, “দেশের রেস্তোরাঁ খাতে প্রধান সমস্যা হলো তীব্র জ্বালানি সংকট। এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা পরিস্থিতি, ব্যবসা পরিচালনায় নেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস, নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারও নেই।” 

এসময় তিনি রেস্তোঁরা খাতে বর্তমানে ছয় সংকটের কথা তুলে ধরেন: ১. তীব্র জ্বালানি সংকট, ২. ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, ৩. মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা পরিস্থিতি, ৪. ব্যবসা পরিচালনায় নেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ৫. নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের দৌরাত্ম্য, ৬. রেস্তোঁরা ব্যবসার সংকটে নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারহীনতা।

এই সংকট নিরসনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন ইমরান হাসান। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম জ্বালানি সংকট নিরসন করতে হবে। রেস্তোরাঁ ব্যবসা কর্পোরেটদের দখলের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নে ট্রেড ইউনিয়নের নামে নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বর্তমান ও আগামী সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।