প্রচারের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর বহু গবেষণা ও উদ্ভাবন জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, “বিসিএসআইআর-এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন শুধুমাত্র যথাযথ প্রচারণার অভাবে প্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিসিএসআইআর-এর ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে ‘বিসিএসআইআর-এর গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান সচিব বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিসিএসআইআর দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক রিসার্চ অর্গানাইজেশন হিসেবে বিজ্ঞান ও শিল্প-প্রযুক্তি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও এর গবেষণালব্ধ ফলাফল যথাযথভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়নি।”
তিনি বলেন, “এই বাস্তবতা বিবেচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ এবং ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ এই দুটি ফোকাসড উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য গবেষণাকে বাজারমুখী করা এবং উদ্ভাবনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।”
মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “একই ধারাবাহিকতায় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ আয়োজন করা হচ্ছে, যা আগামী এপ্রিল ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে।” এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন শিল্প ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সচিব এ সময় বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, তার নির্দেশনায় বিসিএসআইআর এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিশ্লেষণ সেবা কার্যক্রম সেবা প্রত্যাশী এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সপ্তাহের সাত দিন চালু রাখা হয়েছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ। তিনি গবেষণা কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সচিবের আন্তরিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিসিএসআইআর-এর গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ।
তিনি বিভিন্ন গবেষণাগারে উদ্ভাবিত ও ইজারাকৃত পণ্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন এবং বিসিএসআইআর-এর গবেষণালব্ধ ফলাফল আরও ব্যাপকভাবে প্রচারের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিসিএসআইআর-এর পরিচালকবৃন্দ, গবেষণা সমন্বয়কারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।