জাতীয়

পরিবেশগত নয়, আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখন আর শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ও সাসটেইনেবিলিটি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বিভিন্ন দেশ।এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএফআরএস এস ওয়ান ও টু বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সভাকক্ষে ‘উদীয়মান অর্থনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবেদন: চর্চা, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি হিট প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ এই সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবেদন সংক্রান্ত বর্তমান চর্চা, সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারের শুরুতে ইউজিসি হিট প্রকল্পের সাব প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অধ্যাপক আমিরুস সালাত প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন। আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ড. দেওয়ান মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী এবং এসিসিএ বাংলাদেশ মেম্বার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও গ্রামীণফোনের ডেপুটি ডিরেক্টর রাকিবুল ফায়েজ মোহাম্মদ ইকরামাহ।

সেমিনারে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ও পেশাগত সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিয়ন্ত্রক ও মান নির্ধারণমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবেদন সংক্রান্ত নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

সেমিনারে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও সুযোগ মোকাবিলায় কর্পোরেট প্রতিবেদন ব্যবস্থার ভূমিকা, বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়।আলোচনায় নীতিনির্ধারক,পেশাজীবী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

এছাড়া ইউজিসি হিট প্রকল্পের সহকারী সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান ও শাহ আলম সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে আলোচনায় বক্তারা বলেন, উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রে এই মানদণ্ড বাস্তবায়নে সক্ষমতা, তথ্য প্রাপ্যতা ও সুশাসন কাঠামোর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে এ নিয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও তথ্য ও প্রমাণ এখনো খণ্ডিত এবং বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়। ফলে নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ অংশীজনদের জন্য একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে, বাধ্যতামূলক জলবায়ু ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং চালু হলে করপোরেট স্বচ্ছতা বাড়বে, বিনিয়োগ ঝুঁকি মূল্যায়ন সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের আর্থিক খাত আরো টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সাসটেইনেবিলিটি ও জলবায়ু-সংক্রান্ত আর্থিক তথ্য প্রকাশ নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে আইএফআরএস অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জলবায়ু ও সাসটেইনেবিলিটি-সংক্রান্ত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করছে।