বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ্রিং শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, “এখানে উপস্থিত সব কূটনীতিক,ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আমাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আমরা কী কী প্রস্তুতি নিয়েছি, প্রতিটি ধাপে কী কাজ করেছি সবকিছু বিস্তারিতভাবে তাদের সামনে তুলে ধরেছি।”
সিইসি বলেন, “আমরা প্রত্যেকটি পর্যায়ে আমাদের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে ব্রিফ করেছি। তারা এতে সন্তুষ্ট। তারা অত্যন্ত খুশি এবং আস্থাশীল যে আমরা ইনশাআল্লাহ একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি সর্বোচ্চ স্বচ্ছ ও ক্রেডিবল নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ না থাকে। বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তারা তা প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।”
কূটনীতিকদের প্রশ্ন প্রসঙ্গে সিইসি জানান, তারা মূলত পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। “আমরা তাদের জানিয়েছি নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও আনসারসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য মাঠপর্যায়ে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেটিও কূটনীতিকদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কীভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”
সিইসি বলেন, “তারা কোনো ধরনের পরামর্শ দেননি। কারণ তারা আমাদের উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। আমাদের ফোকাস একটাই—দেশবাসীকে একটি সুন্দর, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।”
ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য চার কমিশনার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রিয়াজ উপস্থিত ছিলেন।