পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়, এ দায়িত্ব আমাদের সবার। সরকারকে দায়ী করে বসে থাকলে হবে না। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানোর বদভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এই অভ্যাস পরিবর্তন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে হর্ন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবে না। অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে যেভাবে যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, একইভাবে হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
এ লক্ষ্যে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আইন বাস্তবায়নে পুলিশকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানান পরিবেশ উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, ‘‘ট্রাফিক পুলিশ ইতোমধ্যে কিছু তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যারা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাফিক পুলিশের অংশ হিসেবে কাজ করছে। সিভিল এভিয়েশন ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বন্ধে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব।’’
উপদেষ্টা জানান, অতিরিক্ত শব্দের কারণে ঢাকা শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ চালকের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত। একটি শিশু যখন স্কুলে যায়, তখন হর্নের উচ্চ শব্দ তার জন্য মারাত্মক অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই জাতিগতভাবে আমাদের সবাইকে এই সমস্যা মোকাবিলায় দায়িত্বশীল হতে হবে।
উপদেষ্টা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করার অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রণীত বিধিমালা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) সমন্বিত উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।