জাতীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইন করার আহ্বান ডা. পোদ্দারের

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত আইনে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে জনমত গঠন এবং ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনায় নেতৃত্বদানকারীদের কাছে অধ্যাদেশটির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) উবিনীগের আয়োজনে সিরডাপের ইন্টারন্যাশনাল হলে অনুষ্ঠিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “তামাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ে পর্দার আড়ালে সক্রিয় নানা গোষ্ঠী জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। তামাক চাষ, বিপণন ও বিক্রির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আসক্তি তৈরি এবং নীতি-নির্ধারকদের প্রভাবিত করার গোপন তৎপরতা উদ্বেগজনক।”

তিনি বলেন, “ক্ষতিকর জেনেও কোনো বস্তু ব্যবহার বন্ধ করতে না পারাই আসক্তির লক্ষণ। তামাক সেবনের ক্ষেত্রে ব্যবহার বন্ধ করতে না পারা, বিরক্তি, বার বার গ্রহণের তাগিদ এবং বন্ধ করলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। এই অবস্থাকে ‘উইথড্রয়াল ইফেক্ট’ বলা হয়, যা ব্যবহারকারীকে পুনরায় তামাক সেবনে ফিরিয়ে নেয়।”

বার বার ছাড়ার চেষ্টা করেও পুনরায় শুরু করার প্রবণতা মাদকের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা তামাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থার কারণে তামাক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আইসিডি এবং আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের ডিএসএম, এই দুই ফোরামে রোগ ও আসক্তির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়, বলে জানান তিনি।

সেমিনারে আশা প্রকাশ করা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন হিসেবে পাস করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সুশীল সমাজ, তরুণ সমাজ এবং গণমাধ্যম যৌথভাবে জনমত গঠন ও তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ড. এম. এ. সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান। সেমিনারে বিভিন্ন পেশাজীবী, অংশীদার ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।