প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে। এই সনদের মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করবে না, বরং নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এ সভার আয়োজন করে।
আলী রীয়াজ বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যে ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে, তা আর হারানো উচিত নয়।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা সময়ের দাবি।”
সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, “প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও এতদিন সেই জনগণই বঞ্চিত ছিল। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি, যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়।”
তিনি বলেন, “গণভোটে বিজয়ের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠন সম্ভব।”
রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, “অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত এককভাবে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বাস্তবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, সচিবালয় ও বিচার বিভাগে নিয়োগগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে।”
সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পর্কে ড. রীয়াজ বলেন, “এই বিধান এমপিদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পথে বড় বাধা। সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা, জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ভিত্তিতে।”
গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “হ্যাঁ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাদ যাবে—এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বোগাস।”
এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র মাথ ওরাও।