জাতীয়

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা তদন্তে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি

ঢাকা-৮ আসনে পিঠা উৎসবকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনার তদন্ত করতে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।

ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সভাপতি সিভিল জজ মো. শামসুল হকের কাছে।

গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আয়োজিত শীতকালীন পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় কলেজে উপস্থিত হলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। 

ঘটনার পর রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে রমনা থানা পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে লিখিত প্রতিবেদন ও ব্যাখ্যা জমা দেয়। বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শুক্রবার রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতিবেদন দেন। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিষয়ে তদন্ত করতে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে বলা হয়েছে।

রমনা থানার ওসি তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২৭ জানুয়ারি হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা কোনো রাজনৈতিক দল পুলিশকে অবহিত করেনি।

পুলিশের ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ জানা যায়, ওই উৎসবে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রতিবেদনে ওসি জানান, পুলিশ উভয় পক্ষকেই ওই উৎসবে অংশ না নেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছিল। তবে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজে উপস্থিত হলে সেখানে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ওসি আরো জানান, কলেজ প্রাঙ্গণে তখন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমনকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও তাদের সমর্থকরা এবং অপরদিকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও সেখানে জড়ো হন।

লিখিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় উশৃঙ্খল জনতার মধ্য থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করা হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষকদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস লিখিত ব্যাখ্যায় রিটার্নিং অফিসারকে জানান, পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশেষ করে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আমন্ত্রণ করা হয়নি এবং অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার বিষয়ও ছিল না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি থেকে প্রচারণায় নেমেছেন। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো জনসভা বা কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অবহিত করার বিধান রয়েছে।