ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি রহমানেল মাছউদ বলেন, “প্রার্থী, ভোটার কিংবা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আচরণবিধি তদারকিতে সারা দেশে প্রায় ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “কেউ যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান ও বিচার কমিটির কাছে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। এসব কমিটি অভিযোগ, তথ্য কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও তদন্ত শুরু করতে পারে। তদন্ত শেষে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাঠানো হয় এবং সে অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
এমনকি যদি মোবাইল কোর্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন, তাহলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গুরুতর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”
তিনি বলেন, “কোনো প্রার্থী যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা নিষিদ্ধ এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেন—এটি আচরণবিধি লঙ্ঘন কি না, তা কেস টু কেস ভিত্তিতে তদন্ত করে নির্ধারণ করা হবে।”
এদিকে, শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ওই আসনে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
সামগ্রিকভাবে দেশের নির্বাচনি পরিবেশ বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে বলেও তিনি জানান।