জাতীয়

পোস্টাল ভোট গড়তে পারে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালট গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। প্রবাসী ভোটার, দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারাবন্দি ভোটারদের দেওয়া পোস্টাল ভোট অনেক আসনে চূড়ান্ত ফলাফলে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাস থেকে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন এবং দেশের অভ্যন্তর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪২ জন নিবন্ধন করেছেন। 

১২২ দেশ থেকে প্রবাসী নিবন্ধন

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে প্রবাসীরা বিশ্বের ১২২টি দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে সৌদি আরব থেকে—২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। এরপর রয়েছে মালয়েশিয়া (৮৪ হাজার ২৯২), কাতার (৭৬ হাজার ১৩৯), ওমান (৫৬ হাজার ২০৭), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩৮ হাজার ৫৭৪), কুয়েত (৩৫ হাজার ৩৮৬), যুক্তরাজ্য (৩২ হাজার ৪১৪), যুক্তরাষ্ট্র (৩১ হাজার ৬৪) এবং ইতালি (২৪ হাজার ৪৪৪)।

যেসব আসনে পোস্টাল ভোটার বেশি

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে (১৬ হাজার ১২৪ জন)। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (১৪ হাজার ৩১৬), কুমিল্লা-১০ (১৪ হাজার ৭), নোয়াখালী-১ (১৩ হাজার ৬৬৭), নোয়াখালী-৩ (১২ হাজার ৮৫৯), ফেনী-২ (১২ হাজার ৮১৩), কুমিল্লা-১১ (১২ হাজার ৬১১), সিলেট-১ (১২ হাজার ৪৭৩), কুমিল্লা-৫ (১২ হাজার ৩৮৫) এবং কুমিল্লা-৬ আসন (১১ হাজার ৯৫৯)সহ ১৮টি আসনে ১০ হাজারের বেশি এবং ১৯টি আসনে ৮ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোটার নিবন্ধিত রয়েছে।

ফিরতে শুরু করেছে পোস্টাল ব্যালট

ইসি ইতোমধ্যে প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠিয়েছে। ভোট প্রদান শেষে প্রবাসীরা ব্যালট ফেরত পাঠাতে শুরু করেছেন। ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। দেশে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালট ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জনের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে পোস্টাল ব্যালট ডাক বিভাগে জমা দিচ্ছেন। যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাবে।

রিটার্নিং অফিসার প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ভোট আসনভিত্তিকভাবে সংরক্ষণ করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার যে সব পোস্টাল ভোট গ্রহণ করবেন, শুধু সেগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টে সাউথ এশিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইমতিয়াজ কবীর রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহু আসনে সাধারণত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুবই সামান্য থাকে। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবাসী ভোটার ও দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারদের ভোট যোগ হলে চূড়ান্ত ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে যেসব আসনে ব্যবধান কয়েক হাজার বা তারও কম ভোটে নির্ধারিত হয়, সেখানে পোস্টাল ভোটই জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেবে। ফলে এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের প্রভাব অনেকটা প্রতিফলিত হবে।’’