দেশের সৃজনশীল প্রকাশকদের একটি বড় অংশ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া একুশে বইমেলাকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ‘আত্মঘাতী’ বলে মনে করছেন। এ সময় বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়া মানে প্রকাশনা শিল্পকে প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া উল্লেখ করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন তারা।
আজ রবিবার দেশের ৩২১ প্রকাশক ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হলে ‘অংশ নেবে না’ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন। একইসঙ্গে তারা ঈদের পরে বইমেলা হলে ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে’ মেলায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান।
বিবৃতিতে প্রকাশকেরা জানিয়েছেন, বইমেলা কোনো সরকারি রুটিন ওয়ার্ক বা কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর রোজার মধ্যে মেলা আয়োজনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে মেলার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। বিশেষ করে রোজায় পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা, মানবিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ঝুঁকিকে তারা এ সময়ে মেলা না করার অন্যতম কারণ হিসেবে বলছেন।
প্রকাশকদের বিবৃতিতে বলা হয়, মেলা শুরুর কয়েকদিন পরেই রমজান শুরু হবে। রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজট ঠেলে পাঠক মেলায় আসবেন না। পাঠকহীন মেলা প্রকাশক ও আয়োজক উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। মেলার স্টলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করে, সে কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, সারাদিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবি নামাজের পর এই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক। আমরা আমাদের কর্মীদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলতে চাই না।
গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প ‘চরম মন্দার’ ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বলে প্রকাশকদের ভাষ্য। তারা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে আরও একটি অসফল মেলায় অংশ নিয়ে অবশিষ্ট পুঁজি তারা হারাতে চান না।
অন্যদিকে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এক সাক্ষাৎকারে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘যারা এপ্রিলে মেলা করতে চান, সেটা তো আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই প্রায় অসম্ভব। কারণ বৈশাখী যে ঘূর্ণিঝড়, রোদ এবং ধুলা ইত্যাদি—সব কিছু বিবেচনা করলে মেলা করার জন্য এপ্রিল হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ সময়। কিন্তু এখন যে টাইমটাতে মেলা হচ্ছে, এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে কম। সেদিক থেকে বিবেচনা করে আমরা এই সময় নির্ধারণ করেছি। প্রকাশকদের সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
বাংলা একাডেমির এপ্রিলে ঝড়-বৃষ্টির বিষয়টিকে ‘অজুহাত’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঈদের পরে মেলা হলে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয়, সেই ঝুঁকি প্রকাশকেরা নিতে প্রস্তুত। কিন্তু জেনেশুনে রোজার মধ্যে মেলা করে নিশ্চিত ব্যবসায়িক মৃত্যুর ঝুঁকি তারা নিতে চান না।