জাতীয়

ঘনিয়ে আসছে মাহেন্দ্রক্ষণ, শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম পুরো দেশ

দেখেতে দেখতে ঘনিয়ে আসছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাহেন্দ্রক্ষণ। ভোট দিয়ে পছন্দের জনপ্রতিনিধি এবং সরকার নির্বাচনে মুখিয়ে আছে দেশবাসী। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের কাছে টানতে শেষ মুহূর্তে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সারা দেশে বিরাজ করছে নির্বাচনি আমেজ।

১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে চলছে নির্বাচনি প্রচার। ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে তা শেষ করার বিধান রয়েছে। ফলে, খুব বেশি সময় আর হাতে নেই। 

বিএনপি ও সমমনা ১২ দলের নির্বাচনি ঐক্য জোট এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা সারা দেশেই ব্যাপক নির্বাচনি গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এই বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারও থেমে নেই।

বিএনপি শেষ সময়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীতে বড় ধরনের নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন। টানা দুই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৪টি নির্বাচনি আসনে জনসভা করেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজ নির্বাচনি এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেন তারেক রহমান। বেলা ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনে বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর খেলার মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। এরপর ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোডে বেলা ১টায়, ঢাকা-৯ আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠে বেলা ২টায়, ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে বেলা ৩টায় জনসভা করেন। তারেক রহমান ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে বিকেল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনে ধূপখোলা মাঠে বিকেল ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন দিনাজপুরে নিজ নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মির্জা আব্বাস ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।

জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের শেষ দিনে ঢাকা-১৫ আসনে গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে নেতৃত্ব দেন দলের আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। গণমিছিলে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সন্ধ্যায় ঢাকার দোহার উপজেলায় নির্বাচনি জনসভা করেন জামায়াতের আমির।  

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে জনসভা করেন। সোমবার বিকেলে খানজান আলী থানার উদ্যোগে স্থানীয় শিরোমনি কেডিএ মার্কেট চত্বরে এ সভা করা হয়।

এনসিপি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালান। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনের পীরগাছা উপজেলায়, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দী পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়ে এবং হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লায় নির্বাচনি গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন।

গণঅধিকার পরিষদ পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সোমবার বিকেলে গলাচিপা হাই স্কুলে মাঠে জনসভা করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি মনযোগ কেড়েছেন চিকিৎসক ও জনপ্রিয় জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাসনিম জারা। তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৯ এর অলিগলিতে ঘুরে প্রচার চালান। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ও রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তাদের রেকর্ড করা ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।