জাতীয়

প্রচার শেষ, অপেক্ষা ভোটের 

উত্তপ্ত বাক্যবাণ, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর নানা প্রতিশ্রুতিতে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার। এখন পুরো দেশ তাকিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে। 

তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় থেমে যায় মাঠের সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার।

প্রচারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। মাইকিং, মিছিল, পথসভা এবং ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার কর্মসূচিতে জমজমাট ছিল শেষ সময়। প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারপর্বে কোথাও নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক মামলা ও জরিমানার ঘটনাও ঘটেছে।

তবে মাঠের প্রচার বন্ধ হলেও নির্বাচন ও গণভোটের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি বলছে, মাঠের প্রচারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সব ধরনের প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে এবং বিষয়টি কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হবে।

ভোট আয়োজনে প্রস্তুত ইসি নির্বাচন কমিশন বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় এবার ৩০০টির পরিবর্তে ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।

সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় বুথ ও ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা। 

ভোটের মাঠে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন এক লাখ সেনা সদস্যসহ ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

ভোট পর্যবেক্ষণে থাকবে ৮১টি পর্যবেক্ষণী সংস্থার ৫৫,৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক থাকছেন ৫৪০ জন।

এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা এবং জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।