ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা চারদিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর নগরীর চিত্র এখন অন্যরকম। প্রতিদিনের চিরচেনা যানজট, অফিসগামী মানুষের ভিড় ও গণপরিপহনের চাপ কোনোটাই এখন চোখে পড়ছে না।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, বাংলামটর, কারওয়ানবাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিরচেনা যানজট ও হর্নের শব্দ নেই। কিছু কিছু গণপরিবহন চলাচল করছে, তবে সেগুলোতেও যাত্রী কম।
রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বার বাসস্ট্যান্ড অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাফিউজ্জামান মনির। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমার অফিস মঙ্গলবার ছুটি হয়েছে। কিছু কাজ বাকি ছিল, এ কারণে আজকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি ভোট দিতে। রাস্তায় একেবারে গণপরিবহন নেই। দেশে দীর্ঘদিন পর একটি ভোটের আমেজ পাচ্ছি। এখন ঢাকায় যানজট নেই, ঠিক ঈদের আগের মতো মনে হচ্ছে।”
সায়েন্সল্যাব মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, “এখন ঢাকায় একেবারে ঈদের আমেজ পাচ্ছি। দোকান বন্ধ, গণপরিবহন কম, চিরচেনা যানজট নেই। এবারের ভোটের আমেজ অন্য বারের তুলনায় অনেক বেশি। মানুষ কয়েকদিন ছুটি পেয়েছে তাই পরিবার সঙ্গে নিয়ে সময় কাটাতে ও ভোট দিতে বাড়িতে যাচ্ছেন। রমজানের আগে আর কোন ছুটি পাওয়া যাবে না, তাই বেশিরভাগ মানুষ বাড়ি গেছেন।”
জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে মালঞ্চ পরিবহনের চালক সাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, “এখানে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি যাত্রীদের জন্য। রাস্তায় যাত্রীদের চাপ নেই। অন্যান্য সময়ে জিগাতলা বাস স্ট্যান্ডে যাত্রীদের অনেক চাপ থাকে। আজকে একেবারে ঈদের আগের মতো অবস্থা। তাই আমাদের ফাঁকা গাড়ি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।”
রামনা বাস স্ট্যান্ডে কথা হয় রমজান বাসের চেকার ফয়সাল মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, “সাধারণ সময় আমাদের বাস একেবারে ভর্তি থাকে। আজকে প্রায় ট্রিপে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী যাচ্ছে। আমরা যারা ঢাকায় রয়েছি পরিবার ছেড়ে তাদের জন্য এটা অনেক কষ্টকর। কেননা আমরা পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের ওপর নির্ভরশীল।”