অসুস্থতা সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রে এসেছেন বৃদ্ধা সালেহা বেগম। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে এলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই তার। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে খুশি এই বৃদ্ধা নারী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৬ আসনের টিকাটুলির কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকালেই ভোট দিতে চলে আসেন সালেহা বেগম। বয়স প্রায় ৭৫ বছর। হাঁটতে কষ্ট হয়, কোমরেও ব্যথা। তবুও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখে ভোট না দিয়ে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবেননি তিনি।
ভোট দেওয়ার পর হাসিমুখে সালেহা বেগম বলেন, “শরীরডা ভালো নাই। দাঁড়াইয়া থাকতেও কষ্ট হইছে। তাও ভোট না দিয়া যাই নাই। ভোট দিয়া মনডা ভালো হইছে” (শরীর ভালো নেই। দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়েছে। তবু ভোট না দিয়ে যাইনি। ভোট দিয়ে মনটা ভালো হয়েছে)।
তিনি জানান, বহু বছর পর এবারের নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর। তাই কষ্ট হলেও নিজেকে বঞ্চিত করতে চাননি। “ভোটটা আমার অধিকার। যতদিন বাঁচি, ততদিন ভোট দিমু এইডাই আশা”, বলেন সালেহা।
একই কেন্দ্রে আসা অন্য ভোটাররাও জানান, সকালে উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যা বাড়ছে। অনেককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারীদের জন্য অপেক্ষা করা কষ্টকর হয়ে উঠছে।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মো. মোবারক হোসেন জানান, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। বয়স্ক ভোটারদের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভোটার চাপ বাড়ায় লাইনে সময় লাগছে।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সালেহা বেগম আবারো বলেন, “ভোট দিতে পারছি এইডাই শান্তি। শরীরের কষ্ট পরে দেখা যাইবো।” তার চোখেমুখে তখন স্পষ্ট তৃপ্তির ছাপ।