জাতীয়

হেরে গেলেন আলোচিত যেসব প্রার্থী 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়–পরাজয়ের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একাধিক পরিচিত মুখের পরাজয়। নির্বাচনি প্রচারে দেওয়া বক্তব্য, উপস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এসব প্রার্থী ভোটের মাঠে নজর কাড়লেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মুখ দেখেননি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিভিন্ন ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বাকযুদ্ধের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ঢাকা-৮ আসন। সেখানে ৫ হাজার ভোটে হেরে গেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 

তাসনিম জারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসন থেকে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। তিনি মাত্র ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। 

সারজিস আলম  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসন থেকে। ৮৩০৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন তিনি। ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬টি। 

মনীষা চক্রবর্তী বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত মই প্রতীক নিয়ে লড়ছিলেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী। গতকাল ফেসবুকে তিনি জয়ী হয়েছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে অবশ্য তিনি নিজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের পরাজয়ের খবর জানান। 

ভোটারদের মাটির ব্যাংকের টাকায় নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় আসেন। তার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মানুষের নজর কেড়েছিল। প্রচার শুরুর আগেই কয়েক শ ছোট মাটির ব্যাংক তুলে দিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। অর্থদাতাদের বেশির ভাগই ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকচালক ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক। বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হোন মনীষা। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি তিনি।    মামুনুল হক  ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে ববি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। 

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে রিক্সা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৩২০।

জি এম কাদের  জাতীয় পার্টির দুর্গ খ্যাত রংপুরে এবার একটি আসনও পায়নি দলটি। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। তার মত মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে তৃতীয় হয়েছেন।

রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জিএম কাদের ভোট পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫টি। ২০২৪ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হন।

মুফতি ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসন থেকে লড়ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট।

মোহাম্মদ শিশির মনির  সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।