জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ প্রথম নির্বাচিত সরকার আজ দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিকেলে শপথ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশে। একই অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।
প্রথা অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এবার জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন দ্রুত সংস্কার করে অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ধাপে ধাপে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং গণভবন ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল সীমিত থাকবে। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে দলটি ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসছে। অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।
নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।