দীর্ঘ ১৮ মাস পর বাংলাদেশে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের যাত্রা শুরু হলো। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ঐতিহাসিক ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি ভবন ‘বঙ্গভবন’ নয়, বরং জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে সাদা শার্ট ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। শপথ গ্রহণের পর ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেন। মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তরুণ নেতৃত্ব ও জোট সহযোগী দলের প্রতিনিধিরাও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা নিয়ে চমক দেখাতে চেয়েছেন। প্রবীণ ও নবীন সদস্যদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা ভালো হয়েছে। এখন মন্ত্রীদের দায়িত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আস্থা প্রতিদান দিতে হবে।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে মন জয় করেছেন। এটি নতুন সরকারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।”
সাংবাদিক মারুফ মল্লিক বলেন, “মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয় করা হয়েছে, যা মোটামুটি সুষ্ঠু। তবে সফল হবে নাকি ব্যর্থ, তা সময়ই দেখাবে। আমি লক্ষ্য করেছি যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেক নবীনকে সুযোগ দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে যদি প্রবীণরা নিজেদের ভূমিকা ঠিকমতো না পালন করেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। মনে হচ্ছে, ছোটদেরকে আনা হয়েছে যাতে ভারসাম্য বজায় থাকে। তিনি নবীনদের প্রাধান্য দিয়েছেন, একই সঙ্গে প্রবীণদেরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও খন্দকার মোশাররফের মতো কিছু প্রভাবশালী প্রবীণ নেতার নাম নেই মন্ত্রিসভায়। ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার ছাত্রনেতাদের কেউ মন্ত্রিসভায় নেই, যেমন আমানুল্লাহ আমান, খাইরুল কবির খোকন, কোভিড খোকন, নাজমুদ্দিন আলম, ফয়জুল হক মিলন। পরবর্তী ব্যাচ থেকে আনুমানিক তিনজন এসেছে- এ্যানি ভাই, বকুল ভাই ও হেলাল ভাই। ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ, এখন দেখা যাক কী হয়।”
সংসদ ভবন এলাকায় রাইজিংবিডি ডটকম সঙ্গে কথা হয় আব্দুর সাত্তার নামের এক শিক্ষকের। তার মতে, নতুন মন্ত্রিসভার সফলতা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি রোধের ওপর। সরকার যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে, তবে মন্ত্রিসভা সফল হবে; ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়বে।