জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু সিটি দিয়ে, শেষে ইউপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের সংঘাত ছাড়াই জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ায় কমিশনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ফিরিয়ে দিতে জোরালো আলোচনা চলছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন নিয়েও আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আসন অনুপাতে কোন দল কতটি সংরক্ষিত আসন পাবে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর নির্বাচন দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি নয়টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে, কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো নির্বাচন সূচি চূড়ান্ত করতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে স্থানীয় সরকারের অবস্থা: চব্বিশের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব গ্রহণ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরোশন নির্বাচন আয়োজনে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী সাপ্তাহে কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিটি দিয়ে শুরু এবং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শেষে হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন হলে এভাবে হবে।”