আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “একুশ আমাদের নতুন প্রেরণা হয়ে আসবে।”
একুশের চেতনা ধারণ করেই বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমরা মুক্ত বাংলাদেশে একটি মুক্ত পরিবেশে আমাদের শহীদদের স্মরণ করতে এসেছি। নিঃসন্দেহে একুশের চেতনাতেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াই এবং গণতন্ত্রের সংগ্রামের উৎস নিহিত রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপ্রকাশের সূচনা। একুশের চেতনা থেকেই পরবর্তীতে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা শক্তিশালী হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে।”
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে— অর্থনীতিকে সচল ও গতিশীল করা, রাজনৈতিক পরিবেশকে আরো সংহত ও সহনশীল করা; এসব ক্ষেত্রে একুশের চেতনাই আমাদের পথ দেখাবে।”
তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলনের আদর্শ নতুন করে শক্তি জোগাবে। একুশ কেবল শোকের দিন নয়, এটি আত্মসম্মান, অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রতীক।
রাতের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় দলীয় নেতারা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে নীরবতা পালন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “একুশ আমাদের জাতিসত্তার ভিত্তি। এই দিন আমাদের নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন— দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষা শহিদদের স্মরণ করছে।