আসন্ন ঈদুল ফিতরে বর্তমানে নির্ধারিত পাঁচ দিনের ছুটি আরো বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
চলতি বছর রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ২১ মার্চ। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ওই দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। পাশাপাশি নির্বাহী আদেশে ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পর ২২ ও ২৩ মার্চ মোট চার দিন ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঈদযাত্রার চাপ আরো কমাতে ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। যদি এ দুই দিন ছুটি দেওয়া হয়, তবে ২৬ মার্চের সরকারি ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা ১০ দিনের অবকাশ পাবেন।
গত বছর ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটি থাকায় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারো ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঈদে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাত্রার কারণে যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তা কমাতেই ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ছুটি দীর্ঘ হলে মানুষ ধাপে ধাপে বাড়ি যেতে পারবেন, এতে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপও কম পড়বে। তবে, কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভাই নেবে।
সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন ঈদযাত্রা ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বাড়ছে।