পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ ও নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে ডিজিএফআই, এসবি, ডিবি, এনএসআই সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ এবং র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিএনপি নেতৃত্বাধীন ‘সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সর্বোপরি গভর্নরের দায়িত্বের আওতাভুক্ত সব বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে ভূমিকা পালনে সক্ষম এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষ করে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা পালন নিশ্চিতের স্বার্থে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর কোনগুলো কোন যুক্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে বা হবে না তা স্বচ্ছতার স্বার্থে স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রকাশ করতে হবে জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থকদের, আমলাতন্ত্রের ও ব্যবসায়ীসহ প্রায় সব পেশার অনেকের মধ্যেই দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির বিকাশ রোধে দল ও দলীয় অঙ্গসংগঠনসহ দলীয় আনুগত্যপুষ্ট সব ক্ষেত্রে শুদ্ধতা চর্চা নিশ্চিতে দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীল নির্দেশনাসহ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
বিএনপির অভ্যন্তরে বিএনপি সরকারের সাফল্য পরিপন্থী শক্তি যেন ক্রমান্বয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য সুচিন্তিত কৌশল অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, “বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা ও নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত কৌশল ও পথরেখা প্রণয়ন করতে হবে।”
দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনি অবস্থান ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সরকারের বিশাল সুযোগ ও সক্ষমতার পাশাপাশি বহুমুখী প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির সূত্র, স্বরূপ ও প্রক্রিয়া চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার কৌশল অবলম্বন করার প্রস্তাব দেন ইফতেখারুজ্জামান।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিকে স্বাভাবিকতা প্রদানের সব অপচেষ্টার নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও সংস্থাটির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।