জাতীয়

পরিবারেও নারীদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে: সারা হোসেন

সমাজে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল জনপরিসর বা কর্মক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, পরিবারেও নারীদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

তিনি বলেন, “পরিবারের ভেতরে যে বৈষম্য, হয়রানি বা নির্যাতন ঘটে সেসব নিয়ে মানুষ খুব কমই কথা বলতে চায়, আর এই নীরবতাই বড় সংকট।” 

শনিবার (৭ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘আক্রমণ, বিদ্বেষ, আধিপত্যের বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারা হোসেন বলেন, “সমাজে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে ঘিরে জনপরিসর, কর্মসংস্থান ও পরিবার। জনসমক্ষে বা কর্মস্থলে কেউ বৈষম্যের শিকার হলে তা তুলনামূলকভাবে বলা সহজ হয়। কেউ বলতে পারে তার বস বা কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষ অন্যায় আচরণ করছে। কিন্তু পরিবারের ভেতরে যে বৈষম্য বা নির্যাতন ঘটে, তা নিয়ে মুখ খুলতে মানুষ প্রায়ই সংকোচ বোধ করে।”

বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে এই তিনটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান সারা হোসেন। 

তিনি বলেন, “প্রায় দেড় বছর আগে রাস্তাঘাটে আন্দোলন ও মিছিলে ‘বৈষম্য নিরসনের’ যে দাবি জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়েছিল, পরে সেই দাবির প্রতিধ্বনি ততটা শোনা যায়নি। এর মধ্যে গণভোট ও নির্বাচন হলেও বৈষম্য দূর করার দৃঢ় অঙ্গীকার সেভাবে সামনে আসেনি।”

তিনি আরো বলেন, “বৈষম্য নিরসনে শুধু দাবি তোলাই যথেষ্ট নয়। যেখানে বৈষম্য দেখা যাবে, সেখানে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে সংগঠিত হয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।” একই সঙ্গে আইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কথাও বলেন তিনি।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত বলেন, “বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও সামাজিক বিদ্বেষের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে এর পেছনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোগত সংকটগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। নারীর অধিকার প্রশ্নে টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বহুমাত্রিকভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।”

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার জলি তালুকদারসহ নারী পক্ষের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।