দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তথ্য যাচাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথমে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যা সরাসরি উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
তিনি বলেন, সুবিধাভোগী বাছাইয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT)’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। জমির পরিমাণ, আয়-সম্পদ, বাসস্থানসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের মা বা জ্যেষ্ঠ নারীর নামে ইস্যু করা হবে।
মন্ত্রী আরো জানান, ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচিত পরিবারগুলোর হিসাবে প্রথম কিস্তির অর্থ পাঠানো হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমন্বয় করা হবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। অনিয়মের অভিযোগ জানাতে হটলাইন চালুর পাশাপাশি ১০৯৮ ও ৩৩৩ নম্বরেও অভিযোগ করা যাবে বলে জানান মন্ত্রী।